প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শওকত মোল্লা গ্রেফতার হয়েছেন, সেই খবর এখন অতীত। আসল ধামাকাটা হলো আজ। ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলার গভীরে পৌঁছাতে অভিযুক্ত শওকতকে অবশেষে নিজেদের হেফাজতে নিল এনআইএ (NIA)। আজ কলকাতার বিশেষ আদালত তাঁকে আগামী ১৪ দিনের জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। লক-আপের বদ্ধ ঘরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ম্যারাথন জেরার মুখে এবার কি বেরোবে এই ঘটনার আসল সত্য?
আজ আদালত শওকতকে ১৯ জুন পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়ে বুঝিয়ে দিল—তদন্ত এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা আদালতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই শওকতই ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন। এবার হেফাজতে বসিয়ে জেরা করে এই বোমাবাজির নেপথ্যে থাকা বাকি রাঘববোয়ালদের নাম টেনে বের করবে এনআইএ। বিস্ফোরণের পর তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে এবং অন্য অভিযুক্তদের আড়াল করতে শওকত নিজে যেভাবে কলকাঠি নেড়েছিলেন, হেফাজতে পেয়ে এবার সেই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যের জাল গুটিয়ে আনবেন তদন্তকারীরা। ‘জনপ্রতিনিধি’ বা অন্য কোনো অজুহাতই আজ আদালতে ধোপে টেকেনি। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং নিরপেক্ষ প্রমাণের খাতিরে এই প্রভাবশালী নেতাকে এনআইএ-র লক-আপেই থাকতে হবে।
ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাঁরা একসময় গোটা এলাকা পকেটে রাখতেন, আজ তাঁদের এই হাল দেখে রাজনৈতিক মহলের অন্দরমহলে হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়াটাই তো দস্তুর! শওকতের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল ও পেন ড্রাইভের ফরেনসিক পরীক্ষার সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে আদালত। ওই ডিভাইসগুলো থেকে এবার কোন কোন বড় মাথার নাম ও চ্যাট হিস্ট্রি সামনে আসে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। ক্ষমতার গরমে যাঁরা ভাবতেন আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজীবন পার পেয়ে যাবেন, তাঁদের জন্য আজকের দিনের শিক্ষা—আইনের হাত কিন্তু অত্যন্ত লম্বা এবং অপরাধ করলে ছাড় পাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
