প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ময়দান। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায় গত কয়েকদিনে রাজনৈতিক পারদ চরমে উঠেছে। আর ঠিক ভোটের মুখে ভাঙড়ের মাটি থেকে ফের একবার বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভাঙড়ের ভোগালি এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার মতো তথ্য হাতে পেয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ভোগালি এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মোল্লা নামক এক ব্যক্তির গতিবিধি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই সন্দেহ দানা বাঁধছিল। হাবিবুর এলাকায় আইএসএফ (ISF) কর্মী হিসেবেই পরিচিত। এদিন আচমকাই তাঁর বাড়িতে হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানোর সময় অভিযুক্তের ঘর থেকে উদ্ধার হয় ৩টি সচল আগ্নেয়াস্ত্র এবং বেশ কিছু তাজা কার্তুজ। প্রশ্ন উঠছে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এক রাজনৈতিক কর্মীর শোবার ঘরে এমন ‘মারণ সরঞ্জাম’ মজুত করা হয়েছিল? কোনো বড়সড় নাশকতার ছক কি কষা হচ্ছিল শান্ত ভাঙড়কে অশান্ত করতে? এই ঘটনায় হাবিবুর রহমান মোল্লাকে তড়িঘড়ি আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনা সামনে আসতেই আসরে নেমেছেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী তথা দাপুটে নেতা সওকত মোল্লা। তিনি সরাসরি তোপ দেগেছেন আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে। সওকতের দাবি, “আইএসএফ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বিধানসভা ভোটের আগে এলাকায় সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করতে এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ মজুত করা হয়েছে।” তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, ভোটের লড়াইয়ে পিছু হটে এখন অস্ত্রের রাজনীতিতে ভরসা খুঁজছে বিরোধীরা। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা পাল্টা প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দলীয় সূত্রের খবর, তারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখছে। কিন্তু খোদ কর্মীর বাড়ির ভেতর থেকে সরাসরি অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় সেই যুক্তি আইনি লড়াইয়ে কতটা টিকবে, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন অস্ত্র উদ্ধার অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই হাবিবুর কেবল একজন সাধারণ মাঠের কর্মী নাকি এই অস্ত্র পাচার বা মজুত করার চক্রের পেছনে আরও বড় কোনো রাঘববোয়াল লুকিয়ে আছে। ভাঙড়ের সাধারণ মানুষ এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বারবার কেন নির্বাচনের আগে এই এলাকাতেই বোমাবাজি বা অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে, সেই প্রশ্ন এখন প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায়। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই কীভাবে ঘরের ভেতর এত অস্ত্র পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। এলাকায় বাড়তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ না ছড়ায়।
