Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘২৩ তারিখ ঘরে থাকুন, নয়তো ৫ তারিখের পর জেলের ভাত!’ বীরভূম থেকে তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি অমিত শাহের!

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বীরভূমের মাটি থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত অন্তিম সময়সীমা বেঁধে দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ বোলপুরের হাইভোল্টেজ নির্বাচনী সভা থেকে শাহের যে রুদ্রমূর্তি দেখা গেল, তা গত কয়েক বছরে বঙ্গে নজিরবিহীন। ময়ূরেশ্বর-সহ বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া ‘অত্যাচারের’ কড়ায়-গন্ডায় হিসাব নিতে এবার সরাসরি হুঙ্কার ছাড়লেন তিনি।

এদিন সভা শুরুর প্রথম থেকেই অমিত শাহের নিশানায় ছিল তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। বীরভূমের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে শাহ স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, ময়ূরেশ্বরে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী শূন্য করার নেশায় ব্যাপক অত্যাচার চালিয়েছে। বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো থেকে শুরু করে শারীরিক হেনস্থা ও ঘরছাড়া করার মতো ঘটনাগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে রয়েছে বলে তিনি জানান। শাহের কথায়, ‘‘ময়ূরেশ্বরে তৃণমূল অনেক অত্যাচার করেছে। আমাদের নিচুতলার কর্মীদের ওপর যে অন্যায় হয়েছে, তার প্রতিটি মুহূর্তের বিচার হবে। যারা ভেবেছিলেন ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যাবেন, তাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে।’’

এদিনের বক্তৃতায় সবথেকে চাঞ্চল্যকর এবং চর্চিত বিষয় ছিল শাহের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’। ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। ওইদিন বীরভূমের ভোটদাতারা যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন এবং কোনো প্রকার বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের চেষ্টা না হয়, তার জন্য কড়া বার্তা দেন তিনি। শাহ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘২৩ এপ্রিল ঘরে বসে থাকবেন। না হলে ৫ মে খুঁজে খুঁজে জেলে ভরব।’’

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে অমিত শাহ কার্যত দুই দিকে লক্ষ্যভেদ করেছেন। প্রথমত, ২৩ তারিখের ভোটে কোনো দুষ্কৃতী যেন বুথমুখো হওয়ার সাহস না দেখায়। দ্বিতীয়ত, ৫ মে-র কথা বলে তিনি নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সক্রিয়তার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অমিত শাহ যখন মঞ্চ থেকে এই হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত হাজার হাজার বিজেপি সমর্থকের উল্লাস ছিল কান ফাটানো। বীরভূমের বেতাজ বাদশা বলে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে তৃণমূল যে সেখানে সাংগঠনিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা, শাহের এদিনের আক্রমণাত্মক ভাষা সেই পালে আরও হাওয়া দিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, দিল্লির সরকার বাংলা ও বীরভূমের বিজেপি কর্মীদের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত দিলে এবার আর কেউ রেয়াত পাবে না।

বোলপুরের এই সভার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অমিত শাহের এই ‘খুঁজে খুঁজে জেলে ভরার’ মন্তব্য আসলে তৃণমূলের ক্যাডার বাহিনীর মনোবলে বড়সড় ধাক্কা দিতেই করা। প্রথম দফার নির্বাচনের আগে এই রণং দেহি মেজাজ নিচুতলার বিজেপি কর্মীদের মনে সাহস জোগাবে। শাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও এবার অনেক বেশি সক্রিয় থাকবে।

বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে এই মন্তব্য যে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ডের মতো কাজ করবে, তা নিশ্চিত। ২৩ এপ্রিলের ভোটে এবং তার পরবর্তী দিনগুলোতে শাহের এই হুঁশিয়ারি কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা। যারা আজ অশান্তি পাকানোর ছক কষছেন, ৫ মে-র কথা ভেবে তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

Exit mobile version