প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের শুরুতেই টালমাটাল রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি অলিন্দ। এক কোটি টাকার হাইপ্রোফাইল তোলাবাজি মামলায় টানা চার মাসেরও বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। আজ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার, দুর্গাপূজার মহাতৃতীয়া) কলকাতা হাইকোর্টের বড় স্বস্তি পেলেন তিনি। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের একক বেঞ্চ আজ এই মামলার শুনানি শেষে সব্যসাচী দত্তের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসবের মরশুমে এই রেহাই একেবারেই সাময়িক। প্রাথমিকভাবে মাত্র ১ মাসের জন্য এই অন্তর্বর্তী মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মেয়াদ শেষ হলে আইন অনুযায়ী তাঁকে পুনরায় সংশোধনাগারে ফিরে যেতে হবে।
উচ্চ আদালত সব্যসাচী দত্তকে অন্তর্বর্তী মুক্তির নির্দেশ দিলেও তাঁর ওপর সুনির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতা জারি করেছে। জামিনে থাকাকালীন মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। অন্তর্বর্তী জামিনের যেকোনো একটি শর্ত অমান্য করা হলে বা তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠলে তৎক্ষণাৎ এই জামিন বাতিল হতে পারে।
চলতি বছরের জুন মাসে রাজ্যে এক বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে গভীর রাতে সল্টলেকের বাড়ি থেকে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করে। ২০১৮ সালের একটি পুরনো আর্থিক দুর্নীতির ঘটনার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, সল্টলেকের এক নামী প্রমোটার ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা তোলা বা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই চাপের মুখে পড়ে ব্যবসায়ী প্রাথমিক কিস্তিতে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি করেন। এই মামলায় গত আগস্ট মাসে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিটও জমা দিয়েছিল। নিম্ন আদালতে বারবার তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর অবশেষে দুর্গাপূজার ঠিক মুখে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এই সাময়িক কারামুক্তির নির্দেশ মিললো। যখন তিলোত্তমার বুকে পুজোমণ্ডপের আলো জ্বলে উঠছে, ঠিক সেই সময়ে সব্যসাচী দত্তের এই ঘরে ফেরা তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামী ও পরিবারের জন্য এক বিরাট স্বস্তির হাওয়া বয়ে আনলো।
