প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের ১৪ই এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে বিহারের রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। গত দুই দশক ধরে বিহারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নীতীশ কুমারের দীর্ঘ রাজনৈতিক জমানার কি আজই যবনিকা পতন হতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন— বিহারে এবার কি তবে প্রথমবার এককভাবে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে চলেছেন?
বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ দুপুর ৩টে নাগাদ পাটনায় দলের পরিষদীয় দলের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। সূত্রের খবর, নীতীশ কুমার আজই রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দিতে পারেন। এনডিএ জোটের অন্দরে ক্ষমতার এই রদবদল বিহারের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিহারে পদ্ম শিবিরের এই একক উত্থান বিরোধী শিবিরে রীতিমতো কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘকাল জেডিইউ-র সঙ্গে জোটে থাকলেও, এবার বিজেপি বিহারে নিজেদের ‘ক্যাপ্টেন’ বসাতে মরিয়া। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর থেকেই পাটনায় বিজেপির অন্দরে সাজ সাজ রব। শোনা যাচ্ছে, আগামীকালই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন, যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫-এর পরবর্তী সময়ে বিহারের প্রশাসনিক রাশ শক্ত হাতে ধরতে চাইছে বিজেপি। নীতীশ কুমারের দীর্ঘ শাসনামলে কিছু জনরোষ এবং উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতেই এই ‘অপারেশন বিহার’ শুরু হয়েছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বিহারের মানুষ এবার ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পূর্ণ সুবিধা সরাসরি পেতে চায়, যেখানে কোনো জোটসঙ্গীর চাপ থাকবে না।
বিজেপির এই সম্ভাব্য চালে বিরোধী মহাজোট কার্যত দিশেহারা। আরজেডি বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, রাজনৈতিক মহলের দাবি— বিহারের এই ‘মহাসংগ্রাম’ জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
আজ বিকেল নাগাদ রাজভবনের দিকে নজর থাকবে সারা দেশের। নীতীশ কুমার পদত্যাগ করলে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার নাম উঠে আসে— সম্রাট চৌধুরী, বিজয় সিনহা নাকি অন্য কোনো চমকপ্রদ মুখ— তা নিয়েই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
দলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, “বিহারের মানুষ পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল। আজ সেই দিন। সুশাসন এবং বিকাশই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
