Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

টাকার পাহাড় উদ্ধারের পর উধাও ‘পাথর সম্রাট’ টুলু! বিপাকে পড়ে এবার দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অনুব্রত!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের মাটি কাঁপানো প্রায় ৫০ কোটি টাকার নগদ ও সোনা উদ্ধারের মেগা কেলেঙ্কারির পর জেলা জুড়ে তোলপাড়! মহম্মদবাজারে ‘যকের ধন’ উদ্ধারের পর থেকেই বেপাত্তা এই চক্রের মূল পান্ডা তথা প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাঁড়াশি অভিযানের মাঝেই এবার নিজের চামড়া বাঁচাতে আসরে নেমেছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। নিজের একসময়ের পরম ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ীর কুকীর্তির দায় নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে রাতারাতি দূরত্ব তৈরি করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ‘কেষ্ট’।

মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের রাজকীয় বাড়িতে হানা দিয়ে ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি খাঁটি সোনা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ধৃত মিনার ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে যে, এই বিপুল সম্পত্তি আসলে পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেটের কালো টাকা।

টুলুর কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ফাঁস হতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল শিবির। রাজনৈতিক মহলে এটা ওপেন সিক্রেট ছিল যে, বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের দাপটের দিনগুলোতে তাঁর ঠিক পরেই সাম্রাজ্য চালাত এই টুলু মণ্ডল। কিন্তু আজ টাকার পাহাড় উদ্ধারের পর সম্পূর্ণ ভোল বদলেছেন অনুব্রত। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে সংবাদমাধ্যমের সামনে অনুব্রত মণ্ডল সাফ দাবি করেছেন, “টুলু মণ্ডল আমার পরিচিত হতে পারে, কিন্তু ও আমার কোনো ঘনিষ্ঠ লোক নয়। ও ব্যবসা করে, ওর ব্যবসার ব্যাপারে সরকার বা পুলিশই উত্তর দিতে পারবে। আমি তো ব্যবসায়ী নই!”

যদিও অনুব্রতের এই মন্তব্যকে শতাব্দীর সেরা রসিকতা বলে কটাক্ষ করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, অতীতে গরুপাচার বা কয়লা পাচারের তদন্তের সময়েও সিবিআই ও ইডি টুলুর ডেরায় হানা দিয়েছিল এবং অনুব্রতের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মূল চাবিকাঠি এই টুলুর হাতেই ছিল বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা টুলু মণ্ডলের খোঁজে জেলা জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও তদন্তকারী দল। গতকালই সিউড়িতে টুলু মণ্ডলের বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি, দেউচার অফিস এবং মহম্মদবাজারের পার্কিং লটে একযোগে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। কিন্তু প্রতিটিতেই তালা ঝুলছে। টুলু সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার দুর্নীতিবাজ ও বালি-পাথর মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে ময়দানে নেমেছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার মানুষের থেকে লুট করা প্রতিটা পয়সা উদ্ধার করা হবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল জমানায় যেভাবে বীরভূমের খনিজ ও পাথর সম্পদ লুটে এই সিন্ডিকেট রাজ চালানো হয়েছিল, নতুন সরকারের এক মাসের কড়া পদক্ষেপেই তা আজ বেআব্রু হয়ে পড়েছে। ইডি এবং আয়কর দফতরও ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

Exit mobile version