প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমে এবার উদ্ধার হলো পর্বতপ্রমাণ সোনা ও কোটি কোটি নগদ টাকা। আজ, ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার বীরভূমের মহম্মদবাজার এলাকায় এক হেভিওয়েট পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়র বাড়িতে রাজ্য পুলিশের এক ম্যারাথন তল্লাশিতে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিস মিলেছে। জানা গিয়েছে, বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা গুনতে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ৫টি নোট গোনার মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া সোনা ও টাকা সরিয়ে নিয়ে যেতে আনা হয়েছে বিশাল আকারের ট্রাঙ্ক।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমান বাজারে যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। প্রাথমিক সূত্রে এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, বাড়িটির ভেতর থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। যদিও উদ্ধার হওয়া টাকার চূড়ান্ত অঙ্ক কত, তা পুলিশ এখনও সরকারিভাবে স্পষ্ট করেনি। কারণ এখনও টাকা গোনার কাজ পুরোদমে চলছে।
টাকার পাহাড় মেলা মাত্রই তদন্তকারীরা কোনো সময় নষ্ট না করে মহম্মদবাজারের স্থানীয় একটি ব্যাঙ্ক থেকে পাঁচটি বড় কারেন্সি কাউন্টিং মেশিন আনিয়েছেন, যা দিয়ে একটানা নোট গোনা হচ্ছে।তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং সোনা বীরভূম জেলার পাথর খাদান ও খনি অঞ্চলের অবৈধ আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বেআইনি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। মিনার মণ্ডল একসময় সরকারি বাসের চালক বা কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করলেও, তাঁর জীবনযাত্রার এই বিপুল বৈভব এবং পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের একাধিক খনির ব্যবসার সঙ্গে তাঁর ওতপ্রোত যোগসূত্র থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, “সুনির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। সোনা ও নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া এবং বয়ান নথিভুক্ত করার কাজ চলছে। টাকা গোনার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরই জব্ধ হওয়া মোট অর্থের সঠিক পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।” এই মহাতল্লাশির পর ওই এলাকায় এবং জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
