প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সংঘাত! মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখা এবং নিগ্রহের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে মূল অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট মুফাক্কিরুল ইসলামের সঙ্গে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পুরনো ছবি প্রকাশ করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শমীকবাবু সরাসরি অভিযোগ করেন, যারা রাজ্যে বিচারব্যবস্থার ওপর হামলা চালাচ্ছে, তারা আসলে শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকা লোক। তাঁর তীব্র কটাক্ষ, “মিম-ই তৃণমূল, তৃণমূলই মিম। হুমায়ুনই তৃণমূল, তৃণমূলই হুমায়ুন। সব মিলেমিশে একাকার। একই অঙ্গে একই রূপ, অপূর্ব!”
শমীক ভট্টাচার্য এদিন একটি ছবি দেখান, যেখানে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দিচ্ছেন এবং তাঁর ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছেন মুফাক্কিরুল ইসলাম। (দ্রষ্টব্য: এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের পোর্টাল)। শমীকবাবুর দাবি, “যাকে পুলিশ কালিয়াচক কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড বলছে, সে মুখ্যমন্ত্রীর এত ঘনিষ্ঠ হয় কীভাবে? আসলে মিম-এর মতো সংগঠনগুলো তৃণমূলেরই ‘প্ল্যান বি’।” এদিকে, পাল্টা ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি কালিয়াচকের এই ঘটনাকে তৃণমূলকে বদনাম করার এক ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “বিরোধীরা এবং মিম একজোট হয়ে রাজ্যে অশান্তি পাকাচ্ছে। এটা বাংলার শান্তি নষ্ট করার একটা ব্লু-প্রিন্ট।” তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বহিরাগত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই ধরণের কাণ্ড ঘটানো হচ্ছে যাতে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়।
অভিযোগ, অ্যাডভোকেট মুফাক্কিরুল ইসলামের উস্কানিতেই মোথাবাড়ি এলাকায় ৭ জন বিচারকের গাড়ি দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় সিআইডি (CID) ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্যও তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে মুফাক্কিরুলের ছবি পোস্ট করে একই ধরণের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন।
উপসংহার:রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ‘ছবি-যুদ্ধ’ তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে শমীক ভট্টাচার্যের ‘একই অঙ্গে অনেক রূপ’ তত্ত্ব, অন্যদিকে মমতার ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি— সব মিলিয়ে কালিয়াচক কাণ্ড এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
