প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণ। জেলা স্তরের পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনে রদবদলের পর এবার সরাসরি দিল্লির কোপ পড়ল খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও (CEO) দপ্তরের অন্দরে। সোমবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে সরিয়ে দেওয়া হল দীর্ঘদিনের ডেপুটি সিইও সুব্রত পালকে। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব নিয়ে আসছেন ২০০১ ব্যাচের অভিজ্ঞ ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিক রাহুল নাথ। ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই মেগা রদবদল রাজ্যের প্রশাসনিক অলিন্দে ব্যাপক কম্পন সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে বারংবার নালিশ জমা পড়ছিল। অভিযোগ উঠছিল যে, প্রশাসনের একাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল। জাতীয় নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুব্রত পালের মতো হাই-প্রোফাইল আধিকারিককে সরিয়ে দিয়ে কমিশন স্পষ্ট করে দিল যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র অস্বচ্ছতা বা পক্ষপাতের অভিযোগ থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
শুধুমাত্র সুব্রত পালকে সরানোই নয়, সিইও দপ্তরের অন্দরে একপ্রকার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে কমিশন। জানা গিয়েছে, সুব্রত পালের পাশাপাশি আরও তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন, নরেন্দ্র নাথ দত্ত (অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি), সুপ্রিয়া দাস (অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি), মিঠু সরকার (যুগ্ম সচিব)। সুব্রত পালকে আপাতত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি পদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রাহুল নাথকে অবিলম্বে যুগ্ম মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Joint CEO) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের ১৭৩টি থানার আইসি (IC) এবং ওসি (OC) স্তরের আধিকারিকদের গণহারে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। তার ঠিক পরেই খোদ নির্বাচনী দপ্তরের অন্দরে এই রদবদল কার্যত নজিরবিহীন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রশাসনের একাংশের ওপর কমিশনের এই অনাস্থা রাজ্য সরকারের জন্য এক বড় ধাক্কা। বিরোধীদের দাবি ছিল, অবাধ ভোটের স্বার্থে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আধিকারিকদের সরানো জরুরি। কমিশনের এই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ কি সেই দাবিরই প্রতিফলন? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া রাহুল নাথ একজন অত্যন্ত দক্ষ সিভিল সার্ভিস আধিকারিক। তাঁর সামনে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল, অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী দপ্তরের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সর্বস্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কমিশনের এই অ্যাকশনের ফলে নিচুতলার আধিকারিকদের মধ্যেও একপ্রকার সতর্কবার্তা পৌঁছে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন এখন বুঝিয়ে দিচ্ছে— শুধু ‘মাঠে’র পুলিশ নয়, ‘অফিস’ সামলানো আধিকারিকদের ওপরেও দিল্লির কড়া নজর রয়েছে।
