প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ ৬ এপ্রিল, ২০২৬। ভারতীয় জনতা পার্টির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস। এই ঐতিহাসিক দিনটিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের কোটি কোটি দলীয় কর্মীকে উজ্জীবিত করছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বক্তব্যের শুরুতে ছিল দলের চড়াই-উতরাইয়ের ইতিহাস আর আগামীর ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন। কিন্তু ভাষণ চলাকালীন হঠাৎই থমকালেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর গম্ভীর কণ্ঠে শোনা গেল পশ্চিমবঙ্গ আর কেরলের নাম। কোনো উৎসবের মেজাজ নয়, বরং মোদির গলায় আজ ফুটে উঠল এক কঠিন সংগ্রামের কাহিনী।
প্রধানমন্ত্রী আজ অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের মতো রাজ্যে হিংসাকে এক প্রকার ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে’ পরিণত করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করেন সেই সব অগণিত বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা কেবল দলের আদর্শ আঁকড়ে ধরার অপরাধে গত কয়েক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন। মোদি বলেন, “আমাদের কর্মীরা কেবল লড়াই করছেন না, তাঁরা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক মরণপণ সংগ্রাম চালাচ্ছেন। বিরোধী কণ্ঠরোধ করতে যেখানে রক্ত ঝরানো হয়, সেই পরিস্থিতিতেও আমাদের পতাকাকে সগৌরবে উড়িয়ে রেখেছেন এই বীর সেনানিরা”।
ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলার নিচুতলার কর্মীদের প্রশংসা। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, বাংলার বিজেপি কর্মীরা ভয় পেতে জানেন না। প্রতিনিয়ত হুমকি আর আক্রমণের মুখে থেকেও যেভাবে তাঁরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাকে কুর্নিশ জানান তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিষ্ঠা দিবসের এই আবেগঘন বার্তা আসলে বাংলার সেই সব কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ ‘বুস্টার ডোজ’, যাঁরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন।
কেবল আবেগ নয়, আজকের ভাষণ থেকে আগামীর বড় রাজনৈতিক সংকেতও দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এক দেশ এক ভোট’ এবং ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ (UCC) কার্যকর করা বিজেপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্যে দেশ সঠিক দিশাতেই এগোচ্ছে। বাংলার মতো রাজ্যে যেখানে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাসগত পরিবর্তন একটি বড় ইস্যু, সেখানে মোদির এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
গতকালই উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের রাসমেলার ময়দান থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরে প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে বাংলার কর্মীদের এভাবে সম্মানিত করা এক সুপরিকল্পিত রণকৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজকের ভাষণে তিনি যে ‘আসল পরিবর্তনে’র আহ্বান জানিয়েছেন, তার সুর গতকাল কোচবিহারের জনসভায় আরও চড়েছে বলেই নিশ্চিত দলীয় নেতৃত্বরা। প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর ভাষণে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, দিল্লি থেকে তিনি প্রতিনিয়ত বাংলার প্রতি মুহূর্তের লড়াই পর্যবেক্ষণ করছেন। আজকের এই ‘লড়াইয়ের গল্প’ কেবল ইতিহাস নয়, বরং আগামী দিনে বাংলার ক্ষমতা দখলের এক নতুন সংকল্প।
