প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির মধ্যেই এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। গত মে মাসে রাজ্যের সমস্ত কলেজের পরিচালন সমিতি (Governing Body) ভেঙে দেওয়ার পর, সম্প্রতি রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে সরাসরি বসানো হয়েছে বিজেপির সাংসদ, বিধায়কদের। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। সেখানকার মোট ১৬টি কলেজের মধ্যে ১১টি কলেজের মাথায় বসেছেন বিজেপির বিধায়করা, এবং ২টি কলেজের শীর্ষ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির ২ জন সাংসদকে। এমনকি নন্দীগ্রামের জোড়া কলেজের রাশ দেওয়া হয়েছে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতিদের হাতে। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—শিক্ষা ক্ষেত্রে এটি প্রকৃত ‘পরিবর্তন’ নাকি তৃণমূলের জমানারই ‘প্রত্যাবর্তন’?
তৃণমূল জমানার তৈরি করা ‘গভর্নিং বডি মডেল’ (যেখানে জনপ্রতিনিধি বা দলীয় নেতাদের কলেজের মাথায় বসানো হতো) অনুসরণের এই অভিযোগ তীব্রভাবে খণ্ডন করেছে প্রশাসন। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনও রাজনৈতিক পুনর্বাসন নয়। নিয়মের ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়েছে: কলেজের পরিচালন সমিতিতে স্থানীয় বিধায়ক বা সাংসদরা পদাধিকার বলেই (Ex-officio) সদস্য থাকেন।এবারের নিয়োগে কেবল সেই সমস্ত জনপ্রতিনিধিদেরই সভাপতি করা হয়েছে, যাঁদের ন্যূনতম ব্যাচেলর ডিগ্রি (স্নাতক যোগ্যতা) রয়েছে। যে সমস্ত কলেজে সাম্প্রতিক অতীতে ব্যাপক প্রশাসনিক বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, প্রথম দফায় মূলত সেই কলেজগুলিকেই এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মতো শীর্ষ নেতারাও স্পষ্ট দাবি করেছেন, “দলের মানুষ বসলেও মেধার ভিত্তিতে কাজ হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কোনোভাবেই রাজনীতির আখড়া হতে দেওয়া হবে না।”
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই কড়া আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধায়ক কুণাল ঘোষ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর বলেছিলেন শিক্ষাঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করা হবে। তাহলে এখন ২৪৭টি কলেজের মাথায় বিজেপির নেতাদের বসানো কোন নীতি? এটি বিজেপির দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।” শিক্ষাবিদদের একাংশও মনে করছেন, বাম ফ্রন্টের জমানা থেকে শুরু করে তৃণমূলের শাসনকাল—বাংলায় বারবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বসানোর যে রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল, ক্ষমতার হাতবদল হলেও সেই চেনা দলতন্ত্রের ছবিটাই আবার ফিরে এলো।
