Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভাইরাল ভিডিওর জের! বালি গাড়িতে তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে জামুড়িয়ার বিজেপি নেতা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হলেও নিচুতলার কিছু নেতার মজ্জাগত অভ্যাস এবং অর্থলিপ্সার চরিত্র যে রাতারাতি বদলে যায় না, খনি ও শিল্পাঞ্চল আসানসোলে তার এক চরম দৃষ্টান্ত সামনে এলো। বালি বোঝাই গাড়ি থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের (তোলাবাজি) অভিযোগে এবার খোদ পুলিশি খাঁচায় পুরে দেওয়া হলো জামুড়িয়ার এক বিজেপি নেতাকে। ধৃত নেতার নাম রাকেশ মাজি। জামুড়িয়া এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম সারির নেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। ক্ষমতার মধুভাণ্ডারের নাগাল পেতেই শাসকদলের নেতার এমন বেনজির কীর্তি এবং তার জেরে এই গ্রেফতারি—শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। বেশ কিছুদিন ধরেই জামুড়িয়ার বালি খাদান ও রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা বালি বোঝাই লরি চালকদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছিল। সম্প্রতি রাকেশ মাজির এমনই এক লরি থেকে প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে টাকা তোলার একটি ভিডিও ক্যামেরাবন্দি হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই প্রশাসন আর কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা রেয়াতের পথ বেছে নেয়নি। দলীয় পরিচয়কে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে রাকেশ মাজিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের জামুড়িয়া থানার পুলিশ। আজ তাঁকে আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিনের আবেদন স্পষ্ট নাকচ করে দিয়ে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের (Police Custody) নির্দেশ দিয়েছেন।

বিগত জমানার ‘কাটমানি’ আর ‘সিন্ডিকেট রাজের’ বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে রাজনৈতিক পুঁজি করেই এই রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। স্বভাবতই, শাসনের প্রথম পর্বেই নিজেদের দলের নেতার এমন ওপেন-সেক্রেট কীর্তি চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে গেরুয়া শিবিরের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার অলিন্দে এলে পদের লোভ আর বেআইনি উপার্জনের নেশা যে কোনো রঙের পতাকাধারীকে গ্রাস করতে পারে, জামুড়িয়ার এই ঘটনা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। তবে এই ঘটনার ইতিবাচক দিক একটাই, দলীয় পরিচয় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে, যা সচরাচর দেখা যায় না। পুলিশ এখন রাকেশ মাজিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই তোলাবাজির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে এলাকার আর কোনো মেজো বা সেজো নেতার প্রত্যক্ষ মদত বা ভাগীদারী রয়েছে কি না।

সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—এই গ্রেফতারি কি সত্যিই প্রশাসনের নতুন ও নিরপেক্ষ ‘ক্লিন ড্রাইভ’-এর অংশ, নাকি নিচুতলার ক্ষোভ সামাল দিতে স্রেফ একটা চুনোপুঁটিকে আইনত বলি দেওয়া হলো? বালি-কয়লার এই চারণভূমিতে ক্ষমতার সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঘোরে—তা সময়ই বলবে।

Exit mobile version