প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পঞ্চায়েত ও পুরভোটের প্রাক্কালে ফের প্রকাশ্যে চলে এলো বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাঁকুড়ার ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। ক্ষুব্ধ বিধায়কের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি দলের ভেতরের একাংশের কাজের পদ্ধতি নিয়ে সরব হন। একজন দায়িত্বরত বিধায়কের পক্ষ থেকে দলের একাংশকে এভাবে আক্রমণ করায় অস্বস্তিতে পড়ে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব।
বিধায়কের এই পোস্টের পরই বিজেপির অন্দরে শৃঙ্খলার প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে। এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কড়া বার্তা দেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন:”কেউ হয়তো আবেগপ্রবণ হয়ে বাইরে বলে ফেলেছেন, এটা ঠিক হয়নি।” দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ-বিক্ষোভ যে জনসমক্ষে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আনা উচিত নয়, তা মনে করিয়ে দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, দলের মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে, কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো উচিত। তবে বিধায়কের এই ক্ষোভকে উড়িয়ে না দিয়ে তিনি ড্যামেজ কন্ট্রোলের সুরেই বলেন: “ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকবেই, কিন্তু কেন উনি এই কথা বলেছেন, তা জানতে আমি ওঁর সঙ্গে কথা বলব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা, হাওড়া সহ বিভিন্ন পুরভোটের প্রস্তুতি যখন চলছে, ঠিক তখন বিধায়কের এই ক্ষোভ প্রকাশ বিরোধী শিবিরের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য একদিকে যেমন অমরনাথ শাখাকে বার্তা দিয়ে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলেছেন, তেমনই তাঁর সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ প্রশমনের রাস্তাও খোলা রেখেছেন।
