Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিধানসভার অন্দরে হুলুস্থুল! শীতলকুচি কাণ্ডে খোদ বিজেপি বিধায়কের মুখে বিস্ফোরক দাবি, তীব্র তোলপাড় রাজ্য রাজনীতিতে!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের মাঝেই আজ বুধবার ঘটে গেল এক চরম নজিরবিহীন ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় কোচবিহারের শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিচালনায় ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার খোদ বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে রাজ্য পুলিশের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিআইডি’ (CID) তদন্তের জোরালো দাবি তুললেন বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর। বুধবার স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ দপ্তরের বাজেট নিয়ে চলা তপ্ত বিতর্কের মাঝেই প্রাক্তন এই হাই-প্রোফাইল আইপিএস অফিসারের এমন দাবিতে খোদ শাসক দলের বেঞ্চেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।উল্লেখ্য, আজ থেকে ঠিক ৫ বছর আগে রাজ্যে ২০২১-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন রক্তস্নাত হয়েছিল উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার শীতলকুচি। ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন স্থানীয় ৪ জন বাসিন্দা। সেই সময়ে কোচবিহার জেলার পুলিশ সুপার (SP) পদে কর্মরত ছিলেন খোদ এই দেবাশিস ধরই। পরবর্তীতে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন শাসক দলের সঙ্গে তাঁর চরম সংঘাত তৈরি হয় এবং চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি পদ্মশিবিরে যোগ দেন। আজ সেই ঘটনার ৫ বছর পর, বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে তাঁর এই আকস্মিক সিআইডি তদন্তের দাবি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

আজ বিকেলে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে বলতে ওঠেন বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর। বক্তব্য রাখতে রাখতে আচমকাই তিনি শীতলকুচির সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বিধানসভার স্পিকার এবং অন্যান্য বিধায়কদের সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “শীতলকুচির ঘটনার জল গড়াতে গড়াতে আজ ৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য এবং সেদিন সেখানে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা এখনও মানুষের সামনে পরিষ্কার নয়। আমি দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ সিআইডি তদন্ত করানো হোক, যাতে দুধের দুধ আর জলের জল আলাদা হয়ে যায়।”

খোদ তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার এবং বর্তমান বিজেপি বিধায়কের মুখ থেকে সিআইডি তদন্তের এই দাবি আসায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ বিগত দিনে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি কম হয়নি। বিধানসভার অন্দরে উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেবাশিস ধর নিজেই যেহেতু তৎকালীন পুলিশ প্রধান ছিলেন, তাই এই ঘটনার সমস্ত গোপন নথিপত্র এবং বাস্তব চিত্র তাঁর নখদর্পণে। এমতাবস্থায় নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্র বাজেটের দিনে তাঁর এই সিআইডি তদন্তের দাবি আদতে কোন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে বিধানসভার অলিন্দে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিকেল ৪টের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই স্বরাষ্ট্র বাজেটের ওপর যে জবাবি ভাষণ দেবেন, সেখানে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কিনা— এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

Exit mobile version