Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

থানায় চরম উত্তেজনা! পুলিশকে ওসির সামনেই সরাসরি হুমকি বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোদিয়ার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় রাজনৈতিক কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। গত রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণপুর থানায় দলবল নিয়ে চড়াও হয়ে ডিউটিরত পুলিশ আধিকারিকদের সামনেই থানা ঘেরাওয়ের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোদিয়া-র বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ঘিরে একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে। সিপিআইএম (CPIM) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা জোরপূর্বক ওই সিপিএম পার্টি অফিসটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল। খবর পেয়ে নারায়ণপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। নিজেদের কর্মীদের থানায় তুলে আনার খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পদ্ম শিবির। রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোদিয়ার নেতৃত্বে বিশাল দলবল নিয়ে সরাসরি নারায়ণপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।

থানার ভেতরে ঢুকে আইসি এবং পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে মারাত্মক বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বিধায়ক পীযূষ কানোদিয়া। একটি ভিডিওতে বিধায়ককে স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, “আজ এখানে থানা ঘেরাও হবে (There will be a gherao here today)”। এর পাশাপাশি তিনি ওসির বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। বিধায়ক পীযূষ কানোদিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পালটা দাবি: পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একটি বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকে চাবি দাবি করেছে এবং জোর করে তিন নিরীহ বিজেপি কর্মীকে তুলে এনেছে। ওই নির্দিষ্ট স্থানে কোনো সিপিএম অফিসের অস্তিত্বই নেই। ওই প্রাঙ্গণটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল কারণ তার সাথে যুক্ত এক ব্যক্তি দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন।

থানার এই বিক্ষোভের রেশ গড়ায় গভীর রাতেও। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, থানায় বিক্ষোভ দেখানোর পর রাত ২টোর দিকে রাজারহাট-নিউটাউনের নারায়ণগঞ্জ এলাকায় একাধিক তৃণমূল কর্মীর বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর এবং মারধরের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ওই অফিসটি যে সম্পূর্ণভাবে সিপিএমের, তার সমস্ত আইনি নথি রয়েছে। বিজেপি কর্মীরা জোর করে তা দখল করতে চেয়েছিল। বর্তমানে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (DC) জ্যোতির্ময় রায় জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিও এবং হামলার ঘটনার সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Exit mobile version