Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতার নির্দেশ অমান্য! বিজেপির দুই বিধায়কের শপথের মঞ্চে হঠাৎ তৃণমূলের অশোক-মতিবুর! চরম জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় ভাঙন ও সমন্বয়ের অভাব প্রকট হলো বিরোধী শিবিরে। গতকাল, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগর কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তবে এই দুই বিজেপি বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অন্দরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক। উপনির্বাচনে ভোট লুঠ এবং বুথ জ্যামিং ও হিংসার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বয়কট করার ডাক দিয়েছিল। কিন্তু দলের সেই কড়া নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ শাসক দলের মঞ্চে উপস্থিত হতে দেখা গেল মমতা শিবিরের দুই অত্যন্ত পরিচিত মুখকে।

বয়কটের কড়া ফতোয়া থাকা সত্ত্বেও এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হঠাৎ যোগ দেন বজবজের বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের শপথের সময় তাঁদের এই উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন শাসক দলের সঙ্গে কি তবে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন এই দুই বিধায়ক, নাকি বিরোধী শিবিরের অন্দরে ভাঙন এখন সময়ের অপেক্ষা—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি দাবি করা হয়, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নেই। এটি মূলত দলের আভ্যন্তরীণ ‘সমন্বয়ের অভাব’ (Lack of Coordination)-এর কারণে ঘটেছে। বিধায়কদের কাছে বয়কটের বার্তা সঠিক সময়ে পৌঁছায়নি বলেই তারা দাবি করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ।

তৃণমূলের অন্দরের এই চরম অস্বস্তির দিনে বুধবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখা গেল অন্য এক বিরোধী শিবিরে। এদিন হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দলগতভাবে উপস্থিত ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। নতুন সরকারের সাথে গণতান্ত্রিক সৌজন্য বজায় রেখে তাঁরা দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে অভিনন্দন জানান। বিধানসভা সূত্রের খবর, নতুন বিজেপি বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পর আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে শক্তির ভারসাম্য আরও কিছুটা মজবুত হলো শাসক শিবিরের। অন্যদিকে নিজের দলের বিধায়কদের এই আচরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের অন্দরের ফাটল আবারও জনসমক্ষে চলে এল।

Exit mobile version