Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিল্লিতে সিংহী, কলকাতায় ভিজে বেড়াল? শুভেন্দুর ১ নোটিশে কেন কালীঘাটের খাঁচায় বন্দি মমতা?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একদিকে রাজাবাজারের রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে যখন ‘মমতা তৃণমূল’-এর ছাত্র-যুব কর্মীরা নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই কালীঘাটের মিলন সঙ্ঘের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ফিতে কেটে উৎসবের আলোয় মেতে উঠলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! আন্দোলনের এমন এক চরম এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেত্রীর এই পুজো-যোগ এবং রাজাবাজারের মেগা মিছিল এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিরোধী শিবির। ক্ষমতা হারানোর পর আন্দোলনের তেজ হারিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন কেবল উৎসবের মঞ্চেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখছেন কেন, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

দেবীপক্ষের সূচনা হতেই কলকাতার মানুষ যখন পুজোর আমেজে মেতে উঠেছে, তখন রাজাবাজার-পার্ক সার্কাসের মতো ব্যস্ততম রুট স্তব্ধ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার এই হঠকারী সিদ্ধান্তকে খোদ মমতাই মনে-প্রাণে সমর্থন করতে পারেননি বলে দাবি করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিজেপি শিবিরের এক শীর্ষ নেতার কড়া খোঁচা, “দিল্লির বুকে নির্বাচন কমিশনের সামনে যিনি সিংহের মতো গর্জন করার নাটক করেন, কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশের একটা নোটিশ আসতেই তিনি থতমত খেয়ে ভিজে বেড়াল হয়ে গেলেন! রাজাবাজারে কর্মীদের পুলিশের লাঠির মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে কালীঘাটে গিয়ে ঢাকের কাঠিতে কাঠি ছোঁয়াচ্ছেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর আন্দোলনের চেয়ে পুজো উদ্বোধনের মঞ্চই এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।”

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কলকাতা পুলিশের সিপি অজয় কুমার নন্দ আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, রাজাবাজারের এই রাজনৈতিক মিছিলের কোনো আইনি পারমিশন নেই। আর এই আইনি খাঁড়ার কথা জানতে পেরেই কি সুকৌশলে নিজেকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিলেন মমতা? সমালোচকদের দাবি, যদি রাজাবাজারের বেআইনি মিছিলে পা দিয়ে পুলিশি গ্রেফতারি বা নতুন কোনো আইনি মামলার সম্মুখীন হতে হয়, সেই ভয়েই সচেতনভাবে এই কর্মসূচি এড়িয়ে গিয়ে কালীঘাটের ঘরোয়া পুজো উদ্বোধনের অজুহাত খাড়া করেছেন তিনি। রাজাবাজারে সংখ্যালঘু এলাকার কর্মীদের আবেগকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা হলেও, আইনি বিপদের সময় তাঁদের পাশে না দাঁড়িয়ে নেত্রীর এই পুজো উদ্বোধনে মত্ত থাকা আসলে তাঁর চরম ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতিকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মঙ্গলবার রাজাবাজারের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল কতটা তলানিতে ঠেকেছে। পুলিশ মিছিল আটকাতেই যেভাবে ম্যাটাডোরের ওপর দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষরা দায়সারা ভাষণ দিয়ে রণে ভঙ্গ দিলেন, তা দেখে স্পষ্ট যে খোদ শীর্ষ নেতারাও নেত্রীর সায় ছাড়া বেশিক্ষণ রাস্তায় থাকার ঝুঁকি নিতে চাননি। সব মিলিয়ে, উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি করে সস্তা রাজনীতির এই ব্যর্থ চেষ্টা এবং আন্দোলনের ময়দান ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটে পুজো উদ্বোধনের উৎসব-যোগ আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version