Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শুভেন্দু-শমিককে সাক্ষী রেখে শেষ অঙ্ক মিলল বিধানসভায়! জল্পনা সত্যি করে দুপুরের পর ঠিক কী করলেন সুস্মিতা-সুখেন্দুরা?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে টানটান উত্তেজনা ও জল্পনা চলছিল, অবশেষে সোমবার দুপুরে তাতে পড়ল চূড়ান্ত সিলমোহর। আগের দিনই আমাদের পোর্টালে খবর প্রকাশ হয়েছিল যে আজই বড় কিছু ঘটতে চলেছে। সেই জল্পনাকেই অক্ষরে অক্ষরে সত্যি করে, সপ্তাহের প্রথম দিনেই বিধানসভা ভবনে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন দৃশ্য।সোমবার (১৩ জুলাই) শুভেন্দু অধিকারী এবং শমিক ভট্টাচার্যকে পাশে নিয়ে রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য নিজেদের মনোনয়ন পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিলেন বিজেপির তিন নতুন প্রার্থী—সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার সৌমেন্দ্রনাথ দাসের ঘরে গিয়ে তাঁরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এই মনোনয়ন পর্বের সবচেয়ে নজরকাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গেরুয়া শিবিরের দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতি। প্রার্থীরা যখন তাঁদের নথিপত্র জমা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁদের ঠিক পাশে সশরীরে উপস্থিত থেকে ভরসা জোগালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন প্রার্থীদের পাশে শুভেন্দু-শমিকের এই উপস্থিতি আদতে দলের অন্দরে এবং বাইরে এক বড় জোটবদ্ধতার বার্তা, যা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।

কয়েক দিন আগে পর্যন্তও যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, তাঁদের এই মনোনয়ন জমা দেওয়া বাংলার রাজনীতিতে এক বড় চমক। দলীয় স্তরে মতবিরোধের জেরে তাঁরা সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে গত ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগদান করেন। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দল তাঁদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে চমক দেয়। অন্য দল থেকে আসা নেতাদের এত দ্রুত দিল্লির টিকিট দেওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য জানান, “এই তিনজনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং তাঁদের দলে নেওয়া একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত।”

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের খালি হওয়া এই ৩টি আসনে আগামী ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিধানসভার বর্তমান গাণিতিক সমীকরণ অনুযায়ী এই ভোটগ্রহণ স্রেফ একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ২০৭টি। রাজ্যসভার নিয়মে প্রতিটি আসনের পৃথক উপনির্বাচনে জয়ের জন্য ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে এই তিনটি আসনেই বিজেপির প্রার্থীদের জয় এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিত।

Exit mobile version