Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ চূড়ান্ত, ক্ষোভের আগুন নিচুতলায়! আদিপন্থীদের ব্রাত্য করার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তথাগত!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আদর্শের নামে কি তবে শুধুই বুথ স্তরের কর্মীদের বলিদান? যে নিষ্ঠাবান আদি কর্মীরা বিগত বছরগুলোতে রক্ত ঝরিয়ে, চরম অত্যাচারের মুখে দাঁড়িয়ে বুথ স্তরে দলকে টিকিয়ে রাখলেন—তাঁদের কপালে আজ জুটল চরম বঞ্চনা আর উপেক্ষা! অথচ, যাঁরা গতকাল পর্যন্ত বিরোধী শিবিরের টিকিটে ক্ষমতার পূর্ণ স্বাদ ভোগ করেছেন, দল বদল করতেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভার টিকিট! টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনেই দলের এই সুবিধাবাদী ‘তৃণমূলীকরণ’ নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ আছড়ে পড়ল গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। আর এই চরম বঞ্চনাকে সম্পূর্ণ সিলমোহর দিয়ে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।

সোমবার দলীয় কার্যালয়ে কোয়েল মল্লিকের হাতে পদ্ম পতাকা তুলে দেওয়ার পর বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তাঁর রাজ্যসভা উপনির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এই জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের আড়ালে জমে থাকা নিচুতলার কর্মীদের চরম ক্ষোভ ও যন্ত্রণাকে প্রকাশ্যে এনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নজিরবিহীন ভাষায় চাবুক মারলেন তথাগত রায়। দিল্লির নেতাদের সুবিধাবাদী নীতিকে বেনজির চাবুক তথাগত রায়ের
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল X-এ (প্রাক্তন টুইটার) তথাগত রায় স্পষ্ট ভাষায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই নীতিহীন রাজনীতির বস্ত্রহরণ করেছেন। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রবীণ এই নেতা সরাসরি লিখেছেন—“সুখেন্দু শেখর রায়, কোয়েল মল্লিক, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব, যাঁরা গতকাল পর্যন্ত তৃণমূলী ছিলেন, তাঁদের পুরনো বিজেপি কর্মীদের উপেক্ষা করে বিজেপির তরফ থেকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছে”। এর পরেই দিল্লির নেতাদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লিখেছেন—“পশ্চিমবঙ্গের পুরনো বিজেপি কর্মীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ও যন্ত্রণা রয়েছে। এই ক্ষোভকে উপেক্ষা করা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষে চরম অবিবেচকের কাজ হবে”। আমাদের পোর্টালও ইতিপূর্বে একাধিক গ্রাউন্ড রিপোর্টে নিচুতলার আদি কর্মীদের এই তীব্র বঞ্চনার খবর তুলে ধরেছিল। তথাগত রায়ের এই বিস্ফোরক প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিল যে, গ্রাউন্ড রিপোর্টের আশঙ্কা কতটা নির্ভুল ছিল। আজ যখন পুরস্কার দেওয়ার সময় এল, তখন রাজপথে মার খাওয়া ঘরের ছেলেদের বঞ্চিত করে অন্য দল থেকে আসা তারকা ও সুযোগসন্ধানী নেতাদের জন্য রাজ্যসভার আসন রেড কার্পেট বিছিয়ে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

বিজেপির এই হঠকারী ও ছকহীন দলবদলু-তোষণ নীতির পরিসংখ্যান অত্যন্ত লজ্জাজনক। দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসেই তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক হেভিওয়েট রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। গত জুলাই মাসেই সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মাত্রই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের পুনরায় রাজ্যসভার টিকিট উপহার দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই একই সুবিধাবাদী নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটল কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রেও। তিনি গত এপ্রিলেই তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়ে জুলাইয়ে ইস্তফা দেন এবং এখন বিজেপির হাত ধরে ফের রাজ্যসভায় যাচ্ছেন।

নিচুতলার ক্ষুব্ধ কর্মীদের সরাসরি প্রশ্ন—যদি তৃণমূল থেকে আসা নেতাদেরই সমস্ত বড় পদ আর সাংসদের বিলাসবহুল আসন উপহার দিতে হয়, তবে আদি কর্মীরা কেন লড়াই করলেন?আদর্শের এই বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার লোভী নেতাদের মাথায় তুলে নাচার এই নোংরা খেলা দলটির নিজস্ব ভাবমূর্তিকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তথাগত রায়ের এই প্রকাশ্য ও নির্ভীক প্রতিবাদের পর দিল্লির এসি ঘরে বসা নেতারা নিজেদের ভুল শুধরে আদি কর্মীদের সম্মান ফিরিয়ে দেন, নাকি বঞ্চনার এই ধারা বজায় রেখে দলকে আরও বড় অভ্যন্তরীণ ভাঙনের দিকে ঠেলে দেন, সেটাই এখন দেখার।

Exit mobile version