প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটের আগেই ফের একবার উত্তপ্ত কলকাতার রাজনীতি। সোমবার গভীর রাতে কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ (ববি) হাকিমের চেতলার বাসভবনে হঠাৎই পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের একটি বড় দল। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই মাঝরাতের এই ‘অ্যাকশন’ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
সোমবাবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট। গোটা শহর যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরা হাজির হন মেয়রের চেতলার বাড়ির দোরগোড়ায়। অতর্কিতে এই অভিযানে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির সদস্যদের। মাঝরাতের এই পরিস্থিতি দেখে রীতিমত ক্ষুব্ধ হন ফিরহাদ হাকিম। দীর্ঘক্ষণ চলে বাদানুবাদ।
ঘটনার পর নিজের ক্ষোভ উগরে দেন মেয়র। তিনি বলেন, “রাত দেড়টার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়িতে এসে আমাকে এবং আমার পরিবারকে একপ্রকার হুমকি দিয়ে গেল। কোনো ওয়ারেন্ট নেই, কিছু নেই—শুধু বলা হচ্ছে ভয় দেখানোর জন্য এসেছি।” এই পরিস্থিতিকে সত্তরের দশকের দমনপীড়নের সঙ্গে তুলনা করে তিনি আরও বলেন, “এটা অনেকটা নকশাল আমলের পুলিশি অভিযানের মতো। কমিশনকে ব্যবহার করে আসলে বিজেপি আমাদের ভয় দেখাতে চাইছে।”
এই ঘটনা নিয়ে মেয়রের ‘ভয়’ পাওয়ার তত্ত্বকে কটাক্ষ করেছে বিরোধী শিবির। রাজ্য বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশন নিয়মের বাইরে কিছু করছে না। স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যেখানে প্রয়োজন মনে করবে, সেখানেই যাবে। অন্যদিকে, বাম নেতৃত্বের একাংশের মতে, মেয়রের বাড়িতে কেন বাহিনী গেল এবং কী উদ্দেশ্য ছিল, তা কমিশনকেই খোলসা করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই (CBI) কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মেয়রের বাড়িতে প্রায় ১০ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েছিল। তবে এবারের ঘটনাটি সরাসরি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার পর কলকাতার এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি আগামী দিনগুলোতে শাসক-বিরোধী সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এই অভিযান নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সূত্রের খবর, রুটিন মাফিক নজরদারি বা কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পরিদর্শন হতে পারে। বর্তমানে চেতলা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
