Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বঙ্গে মোদীর প্রচার শুরু! প্রথম দফার মহাযুদ্ধে কোন জেলাকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যের তাপমাত্রার পারদ চড়ার সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাংলার রাজনীতির উত্তাপ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল— দুই দফায় ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে কয়েকশো প্রার্থীর। আর এই মেগা লড়াইয়ের ময়দানে কোমর বেঁধে নামছে সব পক্ষই। তবে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর। বিজেপি সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ থেকেই নিজের নির্বাচনী প্রচারের শিলন্যাস করতে চলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল, প্রধানমন্ত্রী কবে থেকে বাংলায় তাঁর ম্যারাথন প্রচার শুরু করবেন। গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের ঐতিহাসিক সেই জনসমুদ্রের স্মৃতি এখনও টাটকা। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে তৈরি সেই সুবিশাল মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে রূপরেখা শুনিয়েছিলেন, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিনি ফের পা রাখছেন বঙ্গে। দলীয় অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী ৫ এপ্রিল বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নির্বাচনী জনসভা করতে আসছেন নরেন্দ্র মোদী। আর এই জেলাটি উত্তরবঙ্গের এমন এক কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, যা পাহাড় এবং ডুয়ার্স— দুই অঞ্চলের রাজনীতিকেই প্রভাবিত করতে পারে।

নির্বাচনী সমীকরণ অনুযায়ী, প্রথম দফায় অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের সবকটি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। হাতে সময় একেবারেই কম। বিজেপি সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গ বরাবরই তাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত লোকসভা এবং পূর্ববর্তী বিধানসভা নির্বাচনেও এই অঞ্চলের মানুষ দুহাত ভরে পদ্ম শিবিরকে ভোট দিয়েছেন। তাই প্রচারের সূচনা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে উত্তরবঙ্গের এক অন্যতম প্রবেশপথ বা গুরুত্বপূর্ণ জেলাকে বেছে নেবেন, তা ছিল প্রত্যাশিত। বিশেষ করে চা-বলয় এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মা কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি (SPG) সম্ভাব্য সভাস্থল পরিদর্শনে নেমেছে বলে খবর। জনসভার ভিড় সামাল দিতে এবং আইনশৃঙ্খলার দিকটি নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, এই প্রথম সভার মাধ্যমেই গোটা রাজ্যের জন্য একটি বড় বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ব্রিগেডের সেই জনজোয়ারের পর ডুয়ার্সের কোলে মোদী ম্যাজিক কতটা কাজ করবে, তা নিয়ে এখন থেকেই চর্চা শুরু হয়েছে চায়ের দোকানে।

প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। মোদীর এই সফর বিরোধীদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে নাকি শাসক দলের পাল্টা কৌশলে ঢাকা পড়বে, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলাফলেই। তবে ৫ এপ্রিলের এই হাইভোল্টেজ সভা যে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আপাতদৃষ্টিতে ৫ এপ্রিলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Exit mobile version