Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“বয়েই গেছে আমার!” নদিয়ার সভা থেকে কার উদ্দেশ্যে হঠাৎ এমন ‘বিস্ফোরক’ মমতা? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে, হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার ‘ঝড়’ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নদিয়ার বেথুয়াডহরীর হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বেনজির আক্রমণ শানালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর চোখে-মুখে এদিন ধরা পড়েছে এক অদ্ভুত মেজাজ, আর তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসা হুঁশিয়ারি এখন বাংলার চায়ের দোকানে প্রধান আলোচনার বিষয়— “আমও যাবে, আমের ছালাও যাবে।”

ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে দিয়েছেন। সেই মনোনয়ন পেশের দিন শুভেন্দুর সমর্থনে মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত ঢল নেমেছিল, তা যে শাসক শিবিরের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, তা এদিনের মমতার কথাতেই স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, বিজেপি নাকি সেদিন মিছিলে ভিড় বাড়াতে ‘৫০০ টাকা’ করে দিয়ে লোক ভাড়া করে এনেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই ভাড়াটে লোক আসত, তবে তৃণমূলের গড় বলে পরিচিত জেলাগুলোতে কেন মানুষের মধ্যে এমন উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে? কেন বারেবারে মুখ্যমন্ত্রীকে একই কথা বলতে হচ্ছে?

এদিন সভা থেকে পুরনো কাসুন্দি ঘাটতেও ছাড়েননি তৃণমূল সুপ্রিমো। ভবানীপুর নিয়ে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার ভবানীপুরে ৪০ হাজার কেটেছে, বয়েই গেছে আমার!” কিন্তু রাজনীতির কারবারিরা বলছেন অন্য কথা। যদি সত্যিই ৪০ হাজার ভোটে কিছু না এসে যায়, তবে নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কেন সেই পুরনো পরিসংখ্যান আওড়াতে হচ্ছে তাঁকে? তবে কি নিজের গড়ে পদ্ম শিবিরের এই নিঃশব্দ উত্থানই এখন ঘাসফুল শিবিরের সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ?
এদিন সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী একপ্রকার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, এই নির্বাচনে বিরোধীদের অবস্থা শোচনীয় হবে। তাঁর কথায়, “ওদের আমও যাবে, আমের ছালাও যাবে!” কিন্তু গেরুয়া শিবিরের পাল্টা দাবি, পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে দেখেই এখন এমন ‘বেসামাল’ মন্তব্য করছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতি থেকে শুরু করে বেকারত্ব— রাজ্যের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই কি এই ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল?

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হয়েছে। নদিয়ার মাটি থেকে শুভেন্দুকে করা এই আক্রমণ কি আদতে ভয় নাকি কৌশল? ভোটবাক্স খোলার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই ‘আমের ছালা’ কার যায়, আর কার ‘আম’ অক্ষত থাকে— তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি যে আদতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তিকেই পরোক্ষে স্বীকার করে নেওয়া, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version