প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজধানী দিল্লির বুকে নির্বাচন কমিশন (ECI) দফতর অভিযান ঘিরে নজিরবিহীন উত্তেজনা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং আইন অমান্যের অভিযোগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। আজ, মঙ্গলবার দুপুরে আকাশবাণী ভবন ও নীতি আয়োগের মধ্যবর্তী রাস্তায় এই হাই-ভোল্টেজ নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ ১৯টি বিরোধী দলের ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ (Save Democracy) মার্চের ডাক দিয়েছিল। নতুন সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন দপ্তরের দিকে রওনা হওয়া এই মিছিল অল ইন্ডিয়া রেডিও (AIR) অফিসের কাছে পৌঁছতেই ভারী পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়ে।
পুলিশি বাধার মুখে পড়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। রাহুল গান্ধী নিজের হাতে জাতীয় পতাকা (তেরঙা) নিয়ে সরাসরি পুলিশের ব্যারিকেডের ওপরে চড়ে বসেন। তাঁর সঙ্গে ব্যারিকেডে উঠে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ব্যারিকেড থেকে নামিয়ে এনে হেফাজতে নেয় এবং একটি প্রিজন ভ্যানে (বাসে) তুলে নিয়ে যায়। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিবসেনা (UBT) নেতা সঞ্জয় রাউতসহ একাধিক বিরোধী সাংসদকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।
শীর্ষ নেতাদের আটকের খবর ছড়াতেই দিল্লির রাজপথে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে যে বাসে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই বাসের সামনে শুয়ে পড়েন এবং রাস্তা আটকে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শয়ে শয়ে কর্মী। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। এর ফলে লুতিয়েন্স দিল্লির ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
এদিনের মিছিলে রাহুল গান্ধীর হাতে একটি পোস্টার দেখা যায়, যাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল—”Gyanesh, It’s Done Bro”। এই পোস্টারের মাধ্যমে তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই হাইপ্রোফাইল আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ বলে ব্যাখ্যা করলেও প্রশাসনের দাবি, ১৪৪ ধারা অমান্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
