Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বড় খবর: ঋতব্রতকে নতুন দল ও ‘খাম’ প্রতীক দিল নির্বাচন কমিশন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় খবর! সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল ও ভাঙনের জেরে শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। আসন্ন উপনির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে কমিশন চেনা ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ (স্থগিত) করার পর আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল। বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমা দেওয়া তালিকা থেকে ২ নম্বর নাম এবং প্রতীক হিসেবে ‘খাম’ (Envelope)-কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ধাক্কায় জন্ম নিল নতুন দল, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হতে চলেছে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ প্রতীকী লড়াই এবং আইনি টানাপোড়েনের পর নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে তিনটি পছন্দের নাম জমা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে তালিকার ২ নম্বরে থাকা ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (Democratic Trinamool Congress) নামটিকেই দল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিল নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি ভোটের লড়াইয়ে প্রচার এবং ব্যালট পেপারের জন্য তাদের প্রথম পছন্দের প্রতীক ‘খাম’ (Envelope) বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ দুপুরেই কমিশনের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

কমিশনের এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ঋতব্রত শিবিরের নেতা-কর্মীরা। নতুন দল এবং প্রতীক হাতে আসতেই কালীঘাট শিবিরের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “গণতন্ত্রে কোনো একনায়কতন্ত্র বা ব্যক্তিপূজার জায়গা নেই। আমরাই আসল তৃণমূলের আদর্শ নিয়ে মানুষের দরবারে যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবার ‘খাম’ প্রতীক নিয়েই আমরা বাংলায় নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা করব।”

নির্বাচন কমিশনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন এক সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেল। একদিকে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা শাসকদল বিজেপি, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির (যারা নিজেদের বিকল্প নাম ও প্রতীকের জন্য কমিশনের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে) এবং তার মাঝেই আত্মপ্রকাশ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জোড়াফুলের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্ক দুটি শিবিরে আড়াআড়ি বিভক্ত হতে চলেছে, যার সরাসরি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকার পর আজ বিকেল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Exit mobile version