Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মাঝরাস্তায় হঠাৎ গর্জে উঠল বুলডোজার! বহরমপুরে কার বিলাসবহুল সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বেআইনি জবরদখল এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ এবার এক অন্য মাত্রা নিল মুর্শিদাবাদে। কোনো সাধারণ জবরদখলকারী নয়, প্রশাসনের নজরে এবার খোদ এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা! বহরমপুরে সরকারি জমি ও পার্কের জায়গা দখল করে বেআইনিভাবে তৈরি করা এক বিশাল বিলাসবহুল বাগানবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। কিন্তু কে এই প্রভাবশালী ব্যক্তি? কেনই বা তাঁর এই সাধের সাম্রাজ্যের ওপর চলল বুলডোজার? তা নিয়ে সকাল থেকেই তোলপাড় গোটা জেলা।

খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই জানা যায়, এই বিতর্কিত কাঠামোর মালিক আর কেউ নন, স্বয়ং বহরমপুর শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি পাপাই ঘোষ। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রীও ওই এলাকারই মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। দাপুটে এই রাজনৈতিক দম্পতির তৈরি করা বিলাসবহুল বাগানবাড়িতেই পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে হানা দেয় বিশাল বুলডোজার বাহিনী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বহরমপুরের ৩ নম্বর সৈয়দাবাদ বাঙালপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছিল এই বাগানবাড়িটি। অভিযোগ, সরকারি পার্কের জমি এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা গায়ের জোরে দখল করে এই নির্মাণটি করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেআইনি নির্মাণ সরানোর জন্য বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও ক্ষমতার দাপটে তা পাত্তাই দেওয়া হয়নি। অবশেষে আইন নিজের পথেই চলে এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো কাঠামোটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

বুলডোজার অভিযানের পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বিস্ফোরক অভিযোগ, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এই যুব নেতার বাগানবাড়িতে রাতের বেলা নিয়মিত বসত অসামাজিক কাজকর্মের আসর। শুধু তাই নয়, লালদিঘী এফসিআই গুদামের রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

প্রশাসনের এই মারমুখী এবং কড়া রূপ দেখে এলাকাছাড়া অভিযুক্ত যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষ এবং তাঁর প্রধান স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই তাঁরা দুজনেই বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ভাঙচুর চলাকালীন অভিযুক্ত নেতার পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই জমিটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে কেনা হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো আইনি স্থগিতাদেশ (Stay Order) না মেলায় সরাসরি উচ্ছেদ অভিযানে নামে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতেই প্রশাসন এই ধরণের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। তা সে যত বড় প্রভাবশালী নেতাই হোন না কেন, আইন যে সবার জন্য সমান—বহরমপুরের এই ঘটনা যেন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

Exit mobile version