প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্র করে এক মারাত্মক আন্তর্জাতিক জঙ্গি ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বর্ধমানের এক অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) লিঙ্কম্যান হামিম মণ্ডলকে। ধৃত এই জঙ্গির মূল লক্ষ্যই ছিল খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিনিয়ত ফলো করা এবং তার ওপর হামলা চালানো।
তদন্তে নেমে STF জানতে পেরেছে, গত ৯ জুলাই থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত সরকারি কর্মসূচি এবং গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছিল হামিম। ধৃতের মোবাইল ফোন ঘেঁটে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের রুট এবং লাইভ লোকেশন সংক্রান্ত একাধিক গোপন নথি ও ভিডিও উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। এই ঘটনার পরই রাজ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার এই ভয়ানক গলদ এবং জঙ্গি ষড়যন্ত্রের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রীর বাবা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী। তিনি এক চরম সত্য সামনে এনে দাবি করেন, “এই চক্রান্তের খবর আমাদের কাছে আচমকা আসেনি। প্রায় ৩ মাস আগে থেকেই আমরা এই বিষয়ে জানতাম। ভারত সরকারের সিক্রেট সার্ভিস (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা) আমাদের অনেক আগেই সতর্ক (Alert) করেছিল যে শুভেন্দুর ওপর বড়সড় হামলা হতে পারে।” শিশির বাবুর এই বয়ানের পর এটা স্পষ্ট যে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ইনপুটের ওপর ভিত্তি করেই রাজ্য STF দীর্ঘদিন ধরে এই জঙ্গির খোঁজে জাল বিছিয়েছিল।
STF সূত্রে খবর, ধৃত হামিম মণ্ডল কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূল চক্রী পাকিস্তানি জঙ্গি সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করত। ফলে এই ষড়যন্ত্রের তার ডালপালা যে কতটা গভীরে, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের তদন্তকারীরা। ধৃতকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিজের নিরাপত্তা এবং এই জঙ্গি গ্রেফতারি নিয়ে নবান্নে মুখ খুলেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি স্পষ্ট জানান, “নিশানায় কেবল আমি একা নই, আরও এক মন্ত্রীও ছিলেন। তবে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” প্রশাসনের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়কে আরও কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে।
