Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

উৎসবের আলোয় অন্ধকার সেল! হাইকোর্টে চূড়ান্ত ধাক্কা, পুজোয় জেলেই প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আইনি লড়াইয়ে বড়সড় বিপর্যয় ঘটল রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে তাঁর করা অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন আজ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে উৎসবের মরসুমে কোনো আইনি স্বস্তি মেলা তো দূর, শ্রীভূমির পুজোর প্রধান চালিকাশক্তিকে এবারের পুরো পুজোটা কাটাতে হচ্ছে প্রেসিডেন্সি জেলের চার দেওয়ালের অন্ধকারেই। আজ, মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীক্ষ্ণঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ এই হাইপ্রোফাইল মামলার রায় ঘোষণা করে সুজিত বসুর জামিনের আর্জি নাকচ করে দেন।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই মামলায় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে যে চার্জশিট ও তদন্তের অগ্রগতির নথি পেশ করেছে, তা খতিয়ে দেখেই আদালত জামিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইডির পক্ষে আদালতে অত্যন্ত জোরালোভাবে ‘প্রভাবশালী তত্ত্ব’ খাড়া করা হয়েছিল। এজেন্সির দাবি, সুজিত বসু জামিন পেলে এই মেগা দুর্নীতির তদন্তের তথ্যপ্রমাণ লোপাট হতে পারে এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করা হতে পারে।

চলতি বছরের ১১ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন সুজিত বসু অবৈধভাবে ৩৪০ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন, যার মধ্যে ২৮৪ জন চাকরি পান। ইডির চার্জশিট অনুযায়ী, প্রার্থীপিছু গড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮.৮ কোটি টাকার সন্দেহজনক হদিশ মিলেছে। দুর্নীতির এই বিপুল টাকা হোটেল, রেস্তোরাঁ ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট (প্রোমোটিং) এবং শেয়ার বাজারে খাটানো হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

কলকাতার অন্যতম সেরা আকর্ষণ লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গোৎসব মানেই অবধারিতভাবে জড়িয়ে থাকে সুজিত বসুর নাম। মহালয়া পেরিয়ে পুজো মণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের ঢল নামতে শুরু করেছে, তখন পুজোর প্রধান উদ্যোক্তার এই জেলবন্দি দশা তাঁর অনুগামীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে হাইকোর্টের অন্য এক বিচারপতির বেঞ্চে তাঁর জামিন মামলার শুনানি শেষ হলেও, এক আইনজীবীর নথিপত্র দেখার বিতর্কিত চেষ্টার জেরে বিচারপতি মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর মামলাটি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এলে আজ এই চূড়ান্ত ধাক্কা এলো। সব মিলিয়ে, গত ৫ মাস ধরে শ্রীঘরে থাকা এই হেভিওয়েট নেতার উৎসবের দিনগুলোও যে কারাগারেই কাটছে, তা আজ স্পষ্ট করে দিল উচ্চ আদালত।

Exit mobile version