Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিদেশের দরজা বন্ধ! হাইকোর্টের তীব্র চাবুক, দেশেই চিকিৎসার পরামর্শ অভিষেককে!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির ময়দানে আইনি লড়াইয়ের জল কতদূর গড়াতে পারে, তা আরও একবার দেখল তিলোত্তমা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার জরুরি আবেদন আজ বড় ধাক্কা খেল আইনি অলিন্দে। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার যুক্তিতে এই মুহূর্তে তাঁকে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এক লহমায় যেন পরিষ্কার হয়ে গেল, রাজনীতির রঙ বা পদের ওজন যা-ই হোক না কেন, আইনের দাঁড়িপাল্লায় সবার পরিমাপ একই নিয়মে বাঁধা।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, যেহেতু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এই মুহূর্তে বিচারাধীন রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা জারি আছে, তাই হুট করে বিদেশযাত্রার ঢালাও অনুমতি এই মুহূর্তে দেওয়া যাবে না। আদালতের স্পষ্ট বার্তা—ভারতেই যখন বিশ্বমানের চিকিৎসার সবরকম পরিকাঠামো মজুত রয়েছে, তখন কেন বারবার বিদেশ যাওয়ার এই বিশেষ তাগিদ? আইনজীবী মহলের মতে, আদালত এর আগে অভিষেককে কলকাতারই সরকারি পিজি হাসপাতাল (SSKM)-এর একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, দেশীয় চিকিৎসকরাই তাঁর চোখের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিন যে চিকিৎসা সত্যিই এ দেশে সম্ভব কি না। কিন্তু সেই পথে হাঁটতে চাননি খোদ সাংসদ।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণের বিপরীতে দাঁড়িয়ে চরম অনড় অবস্থান নেন অভিষেকের আইনজীবী। শুনানির সময় তিনি জোরের সাথে সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেলের চোখের আগের সমস্ত পর্যায়ের জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা যেহেতু দেশের বাইরে (আমেরিকায়) হয়েছে, তাই চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এবারও বিদেশে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশীয় কোনো সরকারি বোর্ডের চিকিৎসায় বা পরিকাঠামোয় এখন নতুন করে এই চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় বলেই আদালতের মুখের ওপর স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁর আইনি প্রতিনিধিরা।আইনজীবীর এই অনমনীয় ও একপ্রকার ‘প্রত্যাখ্যানের’ মনোভাব দেখার পরেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আর কোনো অবকাশ না রেখে পুরো মামলাটিই খারিজ করে দেন।

এই ঘটনা কেবল একটি চিকিৎসার আবেদন নাকচ হওয়ার সাধারণ আইনি তরজা নয়। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব। ২০১৬ সালের এক পথ দুর্ঘটনায় অভিষেকের চোখে যে গুরুতর চোট লেগেছিল, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু যখনই কোনো কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত বা মামলার জল ঘাড়ের কাছে এসে পৌঁছায়, তখনই চিকিৎসার নাম করে বিদেশযাত্রার এই আইনি আবেদনকে আমজনতা বা বিরোধী শিবির ঠিক কোন চোখে দেখবে? আদালত আজ যে কড়া অবস্থান নিল, তা একদিক থেকে যেমন দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি বিচারালয়ের আস্থা প্রমাণ করে, তেমনই অন্যদিক থেকে হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর আইনি রাশ আলগা না করার এক অনমনীয় বার্তাও দেয়। বিদেশের দরজা আপাতত বন্ধ, এখন দেখার এই আইনি চাবুকের পর তৃণমূলের এই যুবনেতা শীর্ষ আদালতের (সুপ্রিম কোর্ট) দরজায় কড়া নেড়ে কোনো স্বস্তি পান কি না।

Exit mobile version