প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেলেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ (Kallighat Trinamool)-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রাজ্য বিধানসভার ভেতরে নিজের বক্তব্য পেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে—এই গুরুতর অভিযোগ তুলে স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মামলার শুনানিতে তাঁর সেই আবেদন কোনোপ্রকার গ্রাহ্য না করে সরাসরি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইনসভার অভ্যন্তরীণ কার্য পরিচালনায় আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি এক্তিয়ার নেই। এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই আইন অলিন্দে ব্যাপক তৎপরতা তৈরি হয়েছিল। কুণাল ঘোষের আইনজীবীর পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, বিধানসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল ও জনস্বার্থবাহী ইস্যু নিয়ে আলোচনার সময় তাঁর মক্কেলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। স্পিকার বা অধ্যক্ষ পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, যা সংবিধান বিরোধী।
শুনানি চলাকালীন বিধায়কের আইনজীবীর এই যুক্তিতে তীব্র আপত্তি জানান বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। তিনি আবেদনকারী বিধায়কের এই আইনি পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অত্যন্ত কড়া ভাষায় এজলাসে বলেন, “আপনি একজন নির্বাচিত বিধায়ক। আপনার যা বলার, তা বিধানসভার ভেতরেই বলুন। বিধানসভার নিজস্ব নিয়মকানুন এবং কার্যপরিচালনা বিধি রয়েছে। স্পিকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে ঘটে যাওয়া কোনো বিষয়ে এখানে আদালতের কী করার আছে?” আদালতের তরফ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, আইনসভার ভেতরের কোনো রুলিং বা প্রক্রিয়াগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বিচারবিভাগের (Judiciary) কাজ নয়। কুণাল ঘোষের এই আবেদন আইনত গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মনে করে আদালত।
অন্যদিকে, বিধানসভার স্পিকারের পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবী আদালতে কুণাল ঘোষের এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। স্পিকারের আইনজীবী পাল্টা নথিপত্র ও বিধানসভার কার্যবিবরণীর অফিশিয়াল রেকর্ড পেশ করে আদালতে জানান, “আবেদনকারীর অভিযোগ মোটেও ঠিক নয়। বিধানসভার রেকর্ড খতিয়ে দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যাবে যে তিনি এর আগে একাধিকবার নিজের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ পেয়েছেন। বিধানসভাকে এড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে।
উভয়পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও কুণাল ঘোষের আবেদনটি খারিজ করে দেন। এই রায়ের ফলে আইনসভার অভ্যন্তরীণ কার্যপরিচালনায় বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ না করার পুরোনো সাংবিধানিক অবস্থানই আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হলো।
