প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আদালতে আনা বন্দি বা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া তথা ‘ডিম থেরাপি’ বন্ধ করতে এবার বেনজির কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে এবং সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কতগুলি ঘটনা ঘটেছে ও কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল। শুনানিতে ডিম ছোড়ার এই প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বন্দি বা অভিযুক্তদের আদালতে যাতায়াতের পথে ডিম ছোড়া আটকাতে রাজ্যকে অবিলম্বে একটি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। সেই নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত থানায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যে এ যাবৎ ডিম ছোড়ার কতগুলি ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কতগুলি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছে, তা রাজ্যকে ২ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। শুনানির সময় বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “সকলের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।” ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, “শুধু এক-দুজনকে গ্রেফতার করে কী হবে? এই ধরনের ঘটনা রুখতে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।”
সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক হাইপ্রোফাইল মামলার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করার সময় কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডিম ছোড়ার ঘটনা সামনে এসেছে, যাকে চলতি ভাষায় ‘ডিম থেরাপি’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধের আর্জি জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের পক্ষে অবিলম্বে একটি অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে আদালত এখনই কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ না দিয়ে, আগে রাজ্যের অবস্থান এবং পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে। আগামী ২০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের পর এখন রাজ্য প্রশাসন ডিম ছোড়া রুখতে কী ধরনের কঠোর গাইডলাইন তৈরি করে, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
