Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্টের বড় পদক্ষেপ: প্রকাশ্য রাস্তায় ‘পাবলিক শেমিং’ নিয়ে নবান্নকে হলফনামার নির্দেশ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার লড়াইয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর যখন পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই নিচু তলার পুলিশি মানসিকতায় রয়ে যাওয়া পুরোনো জমানার ‘স্বৈরাচারী’ অভ্যাসের ওপর বড়সড় কোপ বসাল উচ্চ আদালত। ধৃত ব্যক্তিদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো এবং প্রকাশ্য জনসমক্ষে হেনস্থা বা ‘পাবলিক শেমিং’ করার পুলিশি ‘অতি-সক্রিয়তা’র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে রাজ্য সরকারকে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সবিস্তার হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকারের জমানায় রাজ্য পুলিশকে আরও স্বচ্ছ, মানবিক ও আইনানুগ করে তোলার যে সঙ্কল্প নেওয়া হয়েছে, আদালতের এই নির্দেশিকা সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।

বিগত জমানায় পুলিশ প্রশাসনের একটা বড় অংশের মধ্যে আইনের তোয়াক্কা না করে বন্দিদের জনসমক্ষে হেনস্থা করার যে দস্তুর তৈরি হয়েছিল, তার কয়েকটি বিচ্ছিন্ন রূপ সম্প্রতি সামনে আসে। কয়েক দিন আগেই হাওড়া জেলা পুলিশ এক অপরাধীকে অত্যন্ত অশালীন পোশাকে রাস্তায় হাঁটিয়ে ‘ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন’ করায়। এরপর উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় এক ধৃত যুব নেতাকেও প্রকাশ্য দিবালোকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ধরণের মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও ‘পাবলিক শেমিং’ রুখতেই আদালতের দ্বারস্থ হন মানবাধিকার কর্মীরা। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট গাইডলাইন রয়েছে যে, অত্যন্ত বিপজ্জনক বা দাগি অপরাধী ছাড়া কোনো বিচারাধীন বন্দি বা অভিযুক্তকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি পরিয়ে জনসমক্ষে ঘোরানো যাবে না। মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যকলাপে সেই নির্দেশকে লঙ্ঘন করার প্রবণতা রুখতেই এই কড়া আইনি হস্তক্ষেপ।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার এক্তিয়ার আদালতের, কিন্তু তদন্তের নামে কোনো নাগরিকের ন্যূনতম আত্মসম্মান ও মানবাধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই। আদালত রাজ্য সরকারকে সাফ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে এই ধরণের আচরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর পুনরাবৃত্তি রুখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। আগামী ৪ সপ্তাহ পরেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

পাশাপাশি, এই সংবেদনশীল বিষয়টিতে ইতিমধ্যেই সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁরা নিজস্ব স্তরে পৃথক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে প্রকৃত আইনের শাসন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এই নির্দেশ অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা পালন করবে।

Exit mobile version