প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রক্তদান শিবিরে ডাক্তার সেজে একদল ডাক্তারি পড়ুয়ার যোগ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হলো চিকিৎসা মহলে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের একশ্রেণীর পড়ুয়া ও ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে ‘মেডিক্যাল অফিসার’ সেজে বিভিন্ন বাইরের ক্যাম্পে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল কর্তৃপক্ষের কাছে। বিষয়টি জানার পরেই কোনো রকম আপস না করে অত্যন্ত কড়া আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করল ক্যালকাটা National Medical College (CNMCH) কর্তৃপক্ষ।
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার ও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অফিশিয়াল মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়ার আগে কোনও পড়ুয়া বা ইন্টার্ন নিজেকে ‘চিকিৎসক’ বা ‘মেডিক্যাল অফিসার’ পরিচয় দিতে পারবেন না।যদি কোনো ছাত্র বা ইন্টার্ন এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির (Health Camp) বা বাইরের কোনো ক্লিনিকে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগী দেখেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আইনানুগ ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন এই কড়া নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করে ফাইনাল ইয়ারের পড়ুয়া এবং ইন্টার্ন—সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।কর্তৃপক্ষের লিখিত আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো পড়ুয়া বা জুনিয়র ডাক্তার বাইরের কোনো এনজিও বা ক্লাবের আয়োজিত মেডিক্যাল বা রক্তদান ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবেন না। যদি কোনো রক্তদান শিবির বা সমাজসেবামূলক কাজের জন্য পড়ুয়াদের ক্যাম্পাস থেকে বাইরে যেতে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আগে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত ছাড়পত্র বা অনুমতি নিতে হবে।
স্বাস্থ্য মহলের মতে, রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও ডিগ্রি ছাড়া কোনো পড়ুয়া যদি রক্তদান শিবিরের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় মেডিক্যাল অফিসার সেজে বসেন, তবে তা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রক্তদাতার স্ক্রিনিং বা শারীরিক পরীক্ষা ভুল হলে বড়সড় চিকিৎসাগত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কলেজের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং রোগীদের সুরক্ষার স্বার্থেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এই ঐতিহাসিক ও কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
