Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

হারিয়ে গেছে এশিয়ার প্রথম সারির গৌরব! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে কী গোপন ফর্মুলা দিলেন অর্থমন্ত্রী?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসময় গোটা এশিয়ার মধ্যে প্রথম সারিতে বুক ফুলিয়ে চলত, আজ ভারতের শীর্ষ তালিকা থেকেও তা তলানিতে এসে ঠেকেছে! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হারিয়ে যাওয়া গৌরব আর মর্যাদা কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১২০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা হলেও কলকাতার ঝুলিতে কেন কিছুই এলো না? শিক্ষা মহলে যখন এই নিয়ে জোর গুঞ্জন ও চাপানউতোর, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ দাওয়াই দিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তবে কি এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে রাজ্য সরকারের মাথায় অন্য কোনো ছক রয়েছে?

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের সেনেট হলে আয়োজিত ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্মৃতিপক্ষ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এক বড়সড় ফর্মুলা দিলেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা করে কোনো বড় আর্থিক প্যাকেজ না থাকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, লক্ষ্যহীনভাবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই বা টাকা ছড়ালেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিকল্পনা ছাড়া বিপুল অর্থ ঢাললেও তার সঠিক রূপায়ণ হয় না। আর এখানেই অর্থমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষকে এক বিশেষ ‘গোপন ফর্মুলা’ বা কৌশলের কথা বলেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বড় কোনো অলৌকিক চমকের আশায় না বসে থেকে, বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে এখন ছোট ছোট এবং অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য (Targeted Target) নিয়ে এগোতে হবে।প্রাচীন গবেষণার ধারা পুনরুজ্জীবিত করার ফর্মুলাডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন কিংবা সি ভি রমনের মতো মনীষীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত জানান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে রয়েছে তার মৌলিক গবেষণার ঐতিহ্যে। একসময় তিব্বতি, পালি, প্রাকৃত, প্রত্নতত্ত্ব এবং সংস্কৃত চর্চার মতো গভীর বিষয়গুলিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের গবেষণা হতো। সেই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গবেষণার ধারাকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে এই ফর্মুলাতেই এগোতে হবে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত চিন্তার পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেও এক রহস্যময় সওয়াল করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা আখড়া নয়। তাই এখানে কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা কোনো একটি পক্ষের সত্যের একচেটিয়া আধিপত্য চলা উচিত নয়। মুক্ত মন ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

তাহলে কি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজ্য সরকার এভাবেই ফেলে রাখবে? এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, এটি কোনো ৮ মাসের সংক্ষিপ্ত বাজেটের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আগামী দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, রাজ্য সরকার তার সবটুকুই করবে এবং পর্দার আড়ালে থেকে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে। অর্থমন্ত্রীর এই কৌশলী ফর্মুলার সুর মিলিয়ে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও জানিয়েছেন, কলা বিভাগে গবেষণার মান বৃদ্ধি করতে এবং ভিনরাজ্যের পড়ুয়াদের আবার এই ক্যাম্পাসে আকৃষ্ট করতে খুব দ্রুত তারা ছোট ছোট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছেন।

Exit mobile version