প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ঐতিহ্যবাহী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমী উদযাপন ঘিরে চরম উত্তেজনা। সরস্বতী পুজো ছাড়া অন্য কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়—এই যুক্তিতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এই ‘অনড়’ অবস্থান এবং বৈষম্যের অভিযোগে আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত কলেজ স্ট্রিট চত্বর। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের ভেতরে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী কেবল বাগদেবীর আরাধনা বা সরস্বতী পুজোরই অনুমতি থাকে। অন্য কোনো নতুন ধর্মীয় বা রাজনৈতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নজির ক্যাম্পাসে নেই। শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পড়ুয়ারাও।
কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছে ABVP নেতৃত্ব। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ক্যাম্পাসের ভেতরে যদি নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার বা ইফতার পালন করা সম্ভব হয়, তবে রামনবমীর ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি কেন? হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় আবেগ ও অধিকারকে পদদলিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। উপাচার্যকে বারংবার ইমেল এবং ডেপুটেশন দিয়েও কোনো সদুত্তর না মেলায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। সংগঠনের এক রাজ্য নেতার কথায়, “এটি সরাসরি হিন্দু বিরোধী মানসিকতা এবং একতরফা তুষ্টিকরণের রাজনীতি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না মেলায় ABVP সমর্থকরা পিছু হটতে নারাজ। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের বাইরেই শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি স্থাপন করে পুজোর আয়োজন করবেন। এই নিয়ে সকাল থেকেই পুলিশ প্রশাসনের সাথে ধস্তাধস্তি ও বচসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আন্দোলনকারী ছাত্রদের সরাতে গিয়ে পুলিশের সাথে খণ্ডযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমী ঘিরে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তবে গত বছর (২০২৫) সেখানে কড়া নজরদারির মধ্যে নির্বিঘ্নেই রামনবমী উদযাপিত হয়েছিল। সেই তুলনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার কর্তৃপক্ষের এই অভাবনীয় কড়াকড়ি এবং অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামহল ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই একে অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে কলেজ স্ট্রিট জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে কেবল ছাত্র সংগঠন নয়, হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
