Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

থানায় বৈশ্বানর হাজির হলেও কেন সময় চাইলেন অভিষেক? সুকান্তর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্যামাক স্ট্রিটের বিতর্কিত বিলবোর্ড বা হোর্ডিং কাণ্ডের তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই চড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই পুলিশের নোটিশ মেনে শেক্সপিয়র সরণি থানায় সশরীরে হাজিরা দিয়েছেন। কিন্তু একই মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা না দেওয়া এবং ই-মেইলের মাধ্যমে তদন্তকারীদের কাছে আরও ৪৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত সময় চেয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এবার তোলপাড় শুরু হলো রাজ্য রাজনীতিতে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর রাজনৈতিক মানসিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

তৃণমূল সাংসদের এই সময় চাওয়ার বিষয়টিকে তীব্র কটাক্ষ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন: “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই পালানোর মানসিকতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তদন্ত বা কোনো বড় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেই ওনার এই পিছিয়ে যাওয়ার এবং নানা অজুহাতে সময় চেয়ে পার পাওয়ার মানসিকতা সবসময়ই প্রকাশ পেয়ে যায়। আইন নিজের পথে চলছে, অথচ উনি মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন কেন?” বিজেপি শিবিরের একাংশের দাবি, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় যেখানে আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তদন্তের মুখোমুখি হতে পারলেন, সেখানে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই বাড়তি সময় চাওয়ার কৌশল আদতে তাঁর রাজনৈতিক ও নৈতিক দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।

গত ২৭ আগস্ট সেন্ট্রাল কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে বিপজ্জনক ও বেআইনিভাবে ঝুলতে থাকা একটি বিলবোর্ড বা হোর্ডিং সরাতে যান কলকাতা পুরসভা (KMC) ও পুলিশের কর্মীরা। সেই সময় সেখানে উপস্থিত তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের বাধায় পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, মারধর ও এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের সাথে অভব্য আচরণের অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। এই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে অত্যন্ত কঠোর ও জামিন অযোগ্য ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এফআইআর-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। এই মামলার তদন্তেই বর্তমানে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। এখন দেখার, অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টার মেয়াদ শেষে তৃণমূল সাংসদ তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন, নাকি নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপের আশ্রয় নেন।

Exit mobile version