প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকা ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। তাঁর অফিসের বাইরে লাগানো একটি দলীয় বিলবোর্ড বেআইনি দাবি করে তা সরাতে যৌথ অভিযানে নামে কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং কলকাতা পুলিশ। এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে সরাসরি তুমুল বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়ালেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আকস্মিকভাবেই গ্যাস কাটার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে করে অভিষেকের ৩ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরের সামনে পৌঁছন। খবর পেয়েই অফিস থেকে নিচে নেমে আসেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি সরাসরি আধিকারিকদের পথ আটকে দাঁড়ান এবং উচ্ছেদ অভিযানের বৈধ নোটিশ বা সরকারি অর্ডার কপি ও অভিযোগের চিঠি দেখতে চান। অভিষেকের স্পষ্ট অভিযোগ, প্রথমে পুরকর্মীরা কোনো সঠিক ও বৈধ নির্দেশনামা দেখাতে পারেননি। সেই সময় পুর আধিকারিকদের উদ্দেশে ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন—”বিলবোর্ড অফিসের বাইরে রয়েছে, তাহলে আপনারা জোর করে অফিসের ভিতরে ঢুকছেন কী করে?” তাঁর দাবি, অর্ডার কপি সঠিক করার অজুহাতে পুলিশ এবং পুরসভা আসলে তাঁর অফিস চত্বরে বেআইনিভাবে প্রবেশ করতে চাইছে।
ঘটনার খবর পেয়ে অভিষেকের অফিসে পৌঁছন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। পুরসভার একটি দল প্রথমে অর্ডারের কপি সংশোধন করতে ফিরে গেলেও, কিছুক্ষণ পর বিশাল পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাঁরা পুনরায় ফিরে আসেন। এই সময় পুলিশ এবং পুরকর্মীরা কার্যত জোর করে অফিসের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে অফিসের মূল ফটকে নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে মূল ফটকের সামনে পুলিশকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা।
এই নজিরবিহীন ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকার অন্য কোনো বিলবোর্ডে হাত না দিয়ে কেন শুধুমাত্র তাঁর অফিসকেই টার্গেট করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিষেক বলেন:”ফুটপাতের ওপর এত বোর্ড লাগানো আছে, কেউ সেটা খুলবে না। পুলিশের এই আচরণ এবং গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে আমরা আগামীকালই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করব। দেশের বিচারব্যবস্থা ও সংবিধানের বাইরে কেউ নয়।” কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে পুরসভায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল যে এই বিলবোর্ডটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে পুর আধিকারিকদের দাবি, তাঁরা কেবল নিজেদের সরকারি ডিউটি করতে এসেছিলেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর কর্মীরা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এলাকায় এখনও ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে।
