প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র। সোমবার (২৩শে মার্চ) চন্দনেশ্বর এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভ এবং হামলার মুখে পড়েন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) প্রার্থী আরাবুল ইসলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
একসময়ের ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম সম্প্রতি ঘাসফুল শিবির ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছেন। দলবদল করার পর ক্যানিং পূর্ব আসনে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে নওসাদ সিদ্দিকীর দল। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছিল। সোমবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরাবুল ইসলামের অভিযোগ, চন্দনেশ্বর মোড় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী তাঁদের মিছিলে অতর্কিতে হামলা চালায়। মিছিলে ইটবৃষ্টি করার পাশাপাশি আইএসএফ কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আরাবুল ইসলামের কথায়, “পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”
হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আরাবুল ইসলাম তাঁর সমর্থকদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এর ফলে ক্যানিং-বারুইপুর রোডে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আরাবুল ইসলাম এলাকায় এসে উস্কানিমূলক মন্তব্য করায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা নয় বরং জনরোষের বহিঃপ্রকাশ।
ঘটনার পর থেকে চন্দনেশ্বর ও সংলগ্ন ভাঙড় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। শান্তি বজায় রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।
২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে জেল থেকে মুক্তির পর এই প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমে বড়সড় বাধার মুখে পড়লেন আরাবুল, যা আগামী কয়েকদিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
