প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সরকারি জমি এবং মাতলা নদীর চর বেআইনিভাবে দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে, ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের ‘চাঁদমণি সেবাশ্রম’-এর দখল নিল প্রশাসন। এদিন প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেআইনিভাবে নির্মিত একাধিক ঘরে সরকারি তালা ঝুলিয়ে দেন।
ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের ইটখোলা পঞ্চায়েত এলাকায় মাতলা নদীর চরের খাস জমি ও জলাভূমি ভরাট করে এই বিশাল আশ্রমটি তৈরি করেছিলেন বিধায়ক পরেশরাম দাস। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং ম্যানগ্রোভ কেটে নদীর চর বুজিয়ে এই নির্মাণ খাড়া করা হয়েছে। এই নিয়ে ভূমি রাজস্ব দফতর (BLRO) এবং মহকুমা প্রশাসনের (SDO) কাছে নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পর, গত মাসে ভূমি রাজস্ব দফতর ও মহকুমা প্রশাসনের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, যে জমির ওপর এই রাজকীয় কাঠামো খাড়া করা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে সরকারি খাস জমি। এর পরেই প্রশাসন জমি খালি করার জন্য ১৫ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়ে কড়া নোটিস পাঠিয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
এদিন প্রশাসনিক নির্দেশিকায় পরেশরাম দাসের ওই ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বিধায়কের আশ্রমের অফিস এবং অ-আবাসিক কাজের জন্য ব্যবহৃত একাধিক ঘরে সরাসরি তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে আশ্রমে বর্তমানে থাকা অসহায় প্রবীণ আবাসিকদের কথা মাথায় রেখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে প্রশাসন। জানানো হয়েছে, সেখানে থাকা অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এখনই বের করা হচ্ছে না; বৃদ্ধাশ্রমের ভবিষ্যৎ ও আবাসিকদের পুনর্বাসন নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
