Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শওকত-পুত্রের পর এবার বিধায়ক পরেশরাম! মাতলা নদীর চর বুজিয়ে ‘অবৈধ’ সাম্রাজ্য ভাঙতে ১৫ দিনের চরম ডেডলাইন প্রশাসনের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে নদী ও সরকারি জমি চুরির অভিযোগে এবার সরাসরি বিদ্ধ পূর্বতন শাসকদলের আরও এক হেভিওয়েট নেতা। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলের বিলাসবহুল ক্যাফে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের দিকে বাড়ল প্রশাসনের হাত। মাতলা নদীর চর এবং সেচ দফতরের সরকারি জমি জবরদখল করে বেআইনিভাবে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার অভিযোগে আজ, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিধায়ককে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার চূড়ান্ত নির্দেশ দিল প্রশাসন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ না সরালে বুলডোজার নামিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে নজিরবিহীন কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ক্যানিংয়ের মৌখালি ব্রিজের পাশে পরিবেশের নিয়ম বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ম্যানগ্রোভ কেটে মাতলা নদীর চর দখল করার অপরাধে শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার ক্যাফেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ক্যানিং মহকুমা প্রশাসন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই মাতলা নদীর অপর পাড়ে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের মায়ের নামে তৈরি ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’ নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানানো হয়েছিল, বৃদ্ধাশ্রমের নাম করে আসলে সেখানে মাতলা নদীর চর বুজিয়ে একটি বড়সড় পরিকাঠামো বা বেআইনি নির্মাণ গড়ে তোলা হচ্ছে।

এই গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। ক্যানিংয়ের মহকুমা শাসক (SDO) এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের (BLRO) আধিকারিকেরা মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে এবং নকশা ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। কাগজপত্র পরীক্ষা করার পর সরকারি রিপোর্টে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সেচ দফতর ও মাতলা নদীর চরের সরকারি জায়গা জবরদখল করেই এই সুবিশাল বৃদ্ধাশ্রম ও অবৈধ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এই জবরদখল ঠেকাতেই আজ ক্যানিং মহকুমা প্রশাসনের তরফ থেকে পরেশরাম দাসকে ১৫ দিনের আইনি নোটিস ধরানো হয়েছে, যার অর্থ আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই বিতর্কিত স্থানটি সম্পূর্ণ ফাঁকা করে সরকারি জমি সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

যদিও শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নদী চুরির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছেন পরেশরাম দাস। তাঁর দাবি, সমাজসেবামূলক কাজের জন্যই ওই আশ্রমটি তৈরি এবং এর পেছনে কোনো বেআইনি উদ্দেশ্য বা বাণিজ্যিক চক্র নেই। তবে প্রশাসনের এই ১৫ দিনের উচ্ছেদ নোটিসের পর সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ক্যানিংয়ে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারে যেভাবে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে একের পর এক নদী জবরদখল করা হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সেই ‘নদী চোর’ সিন্ডিকেটের আসল রূপ মানুষের সামনে চলে এল। শওকত-পুত্রের পর প্রাক্তন বিধায়কের আশ্রমে প্রশাসনের এই অ্যাকশন ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version