Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘আগামীকালের মধ্যে পদত্যাগ করুন, নয়তো…’! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি চরম হুঁশিয়ারি CJP ও কংগ্রেসের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বেনজির সংঘাত এবং ‘জ্ঞানেশকাণ্ড’ ফাঁসের পর দেশজুড়ে নজিরবিহীন রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে আজ শুক্রবার দেশজুড়ে একযোগে তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দিল্লি, কলকাতা, পাটনা, জম্মু, চণ্ডীগড় ও আসামসহ একাধিক রাজ্যের রাজপথ আজ কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।দিল্লিতে যুব কংগ্রেস কর্মীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মুখোশ পরে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড ও জলকামান দিয়ে তাঁদের আটকায়। অন্যদিকে, আসামে কংগ্রেস সাংসদ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে পুলিশ জোরপূর্বক আটক করে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং তাঁকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

CJP-কংগ্রেসের এই রাজপথের আন্দোলনের সমান্তরালে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র চরমপত্র দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। আজ শুক্রবার এক বিশেষ বার্তায় সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়েছেন।অভিজিৎ দীপকে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, “আগামীকাল (শনিবার) এর মধ্যে যদি সিইসি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করেন, তবে আগামী ২ অক্টোবর (গান্ধী জয়ন্তী) থেকে দেশজুড়ে এক ঐতিহাসিক মেগা আন্দোলন শুরু হবে।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রতিবাদের আগুন প্রথমে মুম্বই থেকে শুরু হবে এবং তা সারা দেশের প্রতিটি বড় শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। গণতন্ত্র বাঁচাতে প্রয়োজনে দিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘যন্তর মন্তর ২.০’ (Jantar Mantar 2.0) গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে এই যুব সংগঠন।

বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে একটি ইংরেজি দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর। জানা গেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী স্বয়ং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার অন-রেকর্ড তীব্র আপত্তি (Dissent Notes) জানিয়েছিলেন। দুই নির্বাচন কমিশনারের এই আপত্তি এবং তাঁদের অন্ধকারে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং সমস্ত সিদ্ধান্তই আইনি প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া হয়েছে।

Exit mobile version