প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এবার সরাসরি বড় পদক্ষেপের পথে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দল ছাড়ার এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পর তিনি সোজা চলে গেলেন রাজ্য বিধানসভায়। শনিবার দুপুরে তাঁর এই আচমকা বিধানসভা গমনকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র চাঞ্চল্য। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিধানসভায় গিয়ে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ শিবিরকে এক বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইলেন।
এদিন দলনেত্রীকে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পরেই সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ফেটে পড়েন বিদায়ী সভানেত্রী। খোদ রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বাজেট নিয়ে তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলে নজিরবিহীন অভিযোগ তোলেন তিনি। চন্দ্রিমা স্পষ্ট বলেন, “বাজেট নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। আপনারা যখন জেনেছেন তার কিছুক্ষণ আগে আমি জেনেছি। আমি তো একপ্রকার হাফপ্যান্ট মন্ত্রী ছিলাম।”এই বিস্ফোরক মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সোজা রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে পৌঁছানোয় জল্পনা এখন তুঙ্গে। বিধানসভায় বর্তমানে বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক শিবিরের উপস্থিতির কারণে চন্দ্রিমার এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি কি বিধানসভায় গিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক শিবিরের সাথে পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন, নাকি বড় কোনো ঘোষণা করতে চলেছেন— তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
গত জুন মাসের ৩ তারিখে সুব্রত বক্সীর জায়গায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথাতেই খোদ অর্থ প্রতিমন্ত্রীর এই বেনজির বিদ্রোহ এবং পদত্যাগের পরেই বিধানসভা যাত্রা তৃণমূলের অন্দরের গভীর ফাটলকেই রাজ্যবাসীর সামনে এনে দিল।
