Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

চাষিরা মরছে, শাসক হাসছে! পূর্বস্থলী থেকে মোদীর বিস্ফোরক বার্তায় তোলপাড় বাংলা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার ভোটের আগে কৃষকদের আবেগ আর যন্ত্রণাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে আলু চাষিদের চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “তৃণমূলের সরকার আলু চাষিদের বরবাদ করে দিয়েছে। আলু পচছে, আর কৃষক কাঁদছে। কিন্তু এটা আর চলতে দেওয়া যায় না।” প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল স্পষ্ট বাংলা— “বাংলা চুপ থাকবে না।”

বর্ধমানের সীতাভোগ আর মিহিদানার বিশ্বজোড়া সুখ্যাতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এদিন আক্ষেপের সুরে বলেন, যেখানে মিষ্টির গন্ধে জগত মাতোয়ারা, সেখানকার মাটির মানুষ আজ হাহাকার করছে। আলু চাষিদের জীবন আজ পচনের মুখে। সাম্প্রতিক গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্ধমান, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মত জেলাগুলোতে রেকর্ড ফলন হওয়া সত্ত্বেও ন্যায্য দাম মিলছে না আলু চাষিদের।

কেন ধুঁকছেন বাংলার আলু চাষিরা? ২০২৫-২৬ মরসুমে বাংলায় প্রায় ১৪০-১৫০ লক্ষ টন আলুর রেকর্ড ফলন হয়েছে। কিন্তু এই খুশির খবরই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে চাষিদের জন্য: ১ কেজি আলু ফলাতে চাষির খরচ হচ্ছে প্রায় ৭.৫০ টাকা, অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪ টাকায়। অর্থাৎ কেজি প্রতি ৩.৫০ টাকা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে অন্নদাতাদের।রাজ্যে আলুর বাম্পার ফলন হলেও তা রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে বহু আলু মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো যাচ্ছে না, যার ফলে বাজারে আলুর দাম তলানিতে ঠেকেছে।

আজকের সভা থেকে মোদী কৃষকদের জন্য বড় আশার আলো দেখিয়েছেন। বিজেপির ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে বা ‘সংকল্প পত্রে’ কৃষকদের জন্য বিশেষ চমক রাখা হয়েছে। আলু এবং আম চাষিদের লোকসান রুখতে এবং আধুনিক সংরক্ষণের জন্য বিশেষ স্কিম চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। চাষিদের সমস্যা মেটাতে প্রতিটি ব্লকে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ তৈরির ঘোষণা করেছে বিজেপি। কৃষকদের জন্য বার্ষিক ৯০০০ টাকা আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি ধানের সহায়ক মূল্য (MSP) প্রতি কুইন্টাল ৩১০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার এলে কেন্দ্রের কিষাণ সম্মান নিধির পাশাপাশি রাজ্যের সুবিধাগুলোও কৃষকেরা পাবেন। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে মোদীর এই ‘কৃষক দরদী’ বার্তা বাংলার মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।

Exit mobile version