প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য সরকারি মহলে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) সংক্রান্ত তীব্র অসন্তোষ, ধর্না ও আইনি টানাপোড়েনে এক ঐতিহাসিক ইতি টানল নবগঠিত রাজ্য প্রশাসন। সমস্ত জল্পনা এবং দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ মালদা সফরের হাইপ্রোফাইল মঞ্চ থেকে এক নজিরবিহীন ও যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১৬ অক্টোবরের পূর্বেই রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীরা ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ যুক্ত বেতন হাতে পেতে চলেছেন। উৎসবের মরশুম শুরুর ঠিক মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশির হাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধির বিষয়টি ছিল অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও সামাজিক এজেন্ডা। আজ মালদার মানিকচকে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর প্রশাসনিক বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের কথা জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নতুন সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বিশ্বাসী নয়, বরং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।
সাধারণত মাসের শেষ সপ্তাহে বা নির্দিষ্ট তারিখে সরকারি কর্মীদের বেতন পরিকাঠামো সক্রিয় হয়। কিন্তু নবান্ন সূত্রের খবর, উৎসবের দিনগুলিতে যাতে সরকারি কর্মচারীদের পরিবারে কোনওরকম আর্থিক টান বা কেনাকাটায় ঘাটতি না থাকে, সেই মানবিক দিকটি বিবেচনা করেই এবার মধ্য-অক্টোবরের এই ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই নবান্নের অর্থ দপ্তরে তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আমলা ও অর্থ দপ্তরের আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই বিশেষ মৌখিক ও লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই ১৬ অক্টোবরের ডেডলাইন মিস না হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত সরকারি দপ্তরের কর্মীদের নতুন ২০% বর্ধিত কাঠামো অনুযায়ী ডাটা এন্ট্রি এবং টাকা সরাসরি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট করার ব্যাক-এন্ড প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়া সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন ক্যাবিনেট।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপটি কেবল একটি সাধারণ আর্থিক ঘোষণাই নয়, এটি আদতে একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক। বিগত তৃণমূল জমানায় ডিএ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের সাথে কর্মচারীদের যে চরম সংঘাত তৈরি হয়েছিল, মাসের পর মাস ধরে কলকাতার রাস্তায় যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের যে অবস্থান বিক্ষোভ চলেছিল এবং বিষয়টি যেভাবে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল—নতুন সরকার প্রথম সুযোগেই সেই ক্ষোভের আগুনে জল ঢালতে চাইল। বিগত সরকারের তরফে বারেবারে ‘কোষাগারে টাকা নেই’ কিংবা ‘কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়’ বলে যে যুক্তি খাড়া করা হতো, শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসেই সেই মানসিকতা বদলে দেওয়ার বার্তা দিলেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বড় অংশকে এই ২০ শতাংশ বৃদ্ধি আপাতত বড়সড় স্বস্তি দেবে এবং প্রশাসনের কাজে গতি ফিরিয়ে আনবে। নতুন সরকারের এই প্রথম বড় আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা প্রমাণ করে যে, তারা রাজ্যের প্রশাসনিক মেরুদণ্ড অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের মান্যতা দিতে এবং তাদের ক্ষোভ প্রশমন করতে কতটা তৎপর।
