প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দায়িত্ব নিয়েই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে নজিরবিহীন ও বেনজির আলোড়ন ফেলে দিলেন নতুন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। নবান্নে তাঁর প্রথম বৈঠকের পর থেকেই গোটা রাজ্যের আমলা ও আধিকারিকদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, দায়িত্ব গ্রহণের পরেই রাজ্যের সমস্ত স্তরের আধিকারিক ও সরকারি কর্মীদের অত্যন্ত কড়া ভাষায় এক চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৈঠকে অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়ে নতুন মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাজ করতে হবে সম্পূর্ণ মেরুদণ্ড সোজা রেখে। কোনো রকম আপস বা ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি আধিকারিককে অত্যন্ত শক্ত হাতে নিজের নিজের দপ্তরের দায়িত্ব সামলানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্নের অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, নতুন চিফ সেক্রেটারির এই ‘অ্যাকশন মোড’ দেখে প্রথম দিনেই কার্যত থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে।
সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে তাঁর একটি বিস্ফোরক মন্তব্যে। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন সরকারি কাঠামোর আসল সত্যিটা। বৈঠকে তিনি সাফ বলেন, “কেউ পিওন হতে পারেন, কেউ বা মুখ্যসচিব হতে পারেন। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই জনগণের সেবক।” প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হয়েও তাঁর মুখে এই মন্তব্য আমলাতন্ত্রের চিরাচরিত অহংকারে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে অভিযোগ ছিল, রাজ্যের সরকারি ব্যবস্থা এবং আমলাতন্ত্র সম্পূর্ণ মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। এই আবহে নতুন মুখ্যসচিবের প্রথম দিনেই “শিরদাঁড়া সোজা রাখার” এই কড়া দাওয়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে এতদিন ধরে চলা প্রশাসনিক শিথিলতা বা কোনো অদৃশ্য চাপের রাজনীতির দিকেই আঙুল তুললেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রথম বৈঠকেই যদি এই ঝাঁঝ হয়, তবে আগামী দিনে নবান্নের অন্দরে আরও বড় কোনো ওলটপালট বা কড়া পদক্ষেপ আসতে চলেছে কি না, সেই আশঙ্কায় এখন কাঁপছেন আধিকারিকরা।
