প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সপ্তমী সন্ধ্যার সেই অভিশপ্ত ও মর্মান্তিক ঘটনার পর অবশেষে কড়া পুলিশি পাহারায় আজ হতে চলেছে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের প্রতিমা নিরঞ্জন। সপ্তমী রাতে আকস্মিক পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই থমথমে ছিল এলাকা। গোটা উৎসবের দিনগুলোতে এই পুজো মণ্ডপ অন্ধকারেই ডুবে ছিল। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশে মণ্ডপের কোনো ক্ষতি না করে, মূল অংশটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত রেখেই প্রতিমা নিরঞ্জনের ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। আজ, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) কড়া পুলিশি বেষ্টনীতে নিমতলা ঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে চোরবাগানের দেবী প্রতিমাকে।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দুর্গাপুজোতেই এই বিশাল ট্র্যাজেডি ঘটে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এবং কলকাতা হাইকোর্টের পরামর্শে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে। যেহেতু এখনও ফরেনসিক টিম এবং বিশেষজ্ঞরা মণ্ডপের ভেতরে এসি পরিকাঠামো, ভেন্টিলেশন ও প্রবেশ-প্রস্থান পথ খতিয়ে দেখছেন, তাই পুলিশের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে মূল মণ্ডপটি যেভাবে আছে, সেই অবস্থাতেই অক্ষত রাখতে হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিমাটি নিরাপদে বের করে আনার উদ্দেশ্যে এবং তদন্তের প্রয়োজনে গতকালই চোরবাগানের প্যান্ডেলের সামনের অংশটি খুলে ফেলা হয়েছে। এর আগে সংকীর্ণ গলির ভেতরে থাকা এই মণ্ডপটির সামনে যে ব্যারিকেড ও কাঠামো ছিল, তা আংশিকভাবে সরিয়ে রাস্তা কিছুটা প্রশস্ত করা হয়, যাতে আজ নির্বিঘ্নে ও কোনো রকম নতুন জটলা ছাড়াই প্রতিমা মণ্ডপ থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়।
সপ্তমীর দিন সন্ধ্যায় আচমকা বৃষ্টির সময় মণ্ডপ ভেঙে পড়ার একটি ভুল ও বিভ্রান্তিকর ঘোষণার জেরেই যে এই গণ-আতঙ্ক এবং পদপিষ্ট হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এই ভুল ঘোষণার জন্য দায়ী থাকা দুই অ্যানাউন্সার সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যার ফলে এই ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জন। বিজয়া দশমীর দিন কোনো রকম প্রথাগত দেবী বরণ ছাড়াই শুধু ঘট বিসর্জন করা হয়েছিল। আজ সব রকম আনন্দ-উচ্ছ্বাস বাদ দিয়ে এক চরম বিষাদের আবহে সম্পন্ন হবে চোরবাগান সর্বজনীনের বিসর্জন পর্ব।
