প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই যেন আগ্নেয়গিরি ফাটলো হুগলিতে। চুঁচুড়ার দাপুটে নেতা অসিত মজুমদারকে সরিয়ে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে দলের তরুণ তুর্কি তথা মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। আর এই খবর জানাজানি হতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল বিদায়ী বিধায়কের। সরাসরি দলত্যাগের ইঙ্গিত দিয়ে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করলেন তিনি। প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম না দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অসিত মজুমদার।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, “রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিলাম। দল বললেই কাজ করতে হবে? আমি কি দলের ঠ্যাকা নিয়ে আছি? আমরা তো চুনোপুটি লোক, তাহলে আমাদের সাথে কেন কথা বলবে!” দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এই তীব্র শ্লেষই বুঝিয়ে দিচ্ছে, টিকিট না পাওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। কিন্তু কেন বাদ পড়লেন অসিত? নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে ক্ষুব্ধ বিধায়কের প্রশ্ন, “আমি মনে করেছি আমার কোনো খামতি নেই, ওরা মনে করেছে খামতি আছে। না হলে তিনবার আমাকে টিকিট দিল, এবার দিলো না কেন?”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চুঁচুড়ার মাটিতে গত কয়েক বছর ধরে সংগঠনের দায়িত্ব একা হাতে সামলেছেন অসিত। সেখানে হঠাৎ করে ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেবাংশু ভট্টাচার্যের আগমনকে যে তিনি সহজভাবে নিচ্ছেন না, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। এদিন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে নাটকীয় মোড় আনলেন তিনি। অসিতবাবু জানান, “আবার দরকার পড়লে ওকালতি শুরু করব। উকিলের ডিগ্রি আছে, বার কাউন্সিলের সার্টিফিকেট আছে, আবার কোর্টে যাব। তবে রাজনীতি আর করব না।”
এদিকে তৃণমূলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তৃণমূল এখন ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’ নীতিতে চলছে। পুরোনো কর্মীদের অসম্মান করাই এখন ঘাসফুল শিবিরের কালচার। স্বাভাবিক ভাবেই চুঁচুড়ায় দেবাংশুর জয়ের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই খোদ দলের বর্ষীয়ান নেতার এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অন্দরে কতটা অস্বস্তি বাড়াবে, এখন সেটাই দেখার। অসিত মজুমদার কি শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন, নাকি কালীঘাটের ফোনে বরফ গলবে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
