Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দাদাগিরি ধোপে টিকল না, শুভাশিসদের বাধা উড়িয়ে মমতার কালীঘাটের ডেরায় ঢুকে পড়ল সিআইডি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সমস্ত জল্পনা এবং প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার। শেষরক্ষা করতে পারল না তৃণমূল নেতৃত্ব। দীর্ঘ টালবাহানা এবং দলীয় কর্মীদের তীব্র বাধা উড়িয়ে দিয়ে অবশেষে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি সংলগ্ন মূল কার্যালয়ের অন্দরে প্রবেশ করলেন রাজ্য সিআইডি (CID)-র গোয়েন্দারা।

আজ দুপুর থেকেই কালীঘাটের হাই-প্রোফাইল চত্বরে উত্তেজনা ছিল চরমে। বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে সিআইডি-র বিশাল দল সেখানে পৌঁছালে কার্যত গেট আটকে দাঁড়ান তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী ও তাঁর অনুগামীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই দিল্লিতে রয়েছেন— এই যুক্তি দেখিয়ে সিআইডি-কে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষণ গেটের সামনেই আটকে রাখা হয় তদন্তকারীদের। কিন্তু গোয়েন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তের স্বার্থে এবং আদালতের আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তাঁরা এসেছেন, কোনো বাধা বরদাস্ত করা হবে না।

গেটের সামনে কিছুক্ষণ তীব্র বাদানুবাদ ও টানাপোড়েন চলার পর সিআইডি-র কড়া মনোভাবের সামনে কার্যত পিছু হঠতে বাধ্য হয় তৃণমূল শিবির। সূত্রের খবর, সিআইডি-র ৯ জন অফিসারের একটি দল ভিডিওগ্রাফারদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের ওই মূল পার্টি অফিসের ভেতরে সরাসরি প্রবেশ করেছে। এই মুহূর্তে কার্যালয়ের অন্দরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সই জালিয়াতি মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ হাতেনাতে সংগ্রহ করতেই এই হানা বলে জানা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নিজেদের পাতা ফাঁদেই এবার পা দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সিআইডি-র নোটিসের জবাবে পূর্বে জানিয়েছিলেন যে, বিধায়কদের ওই বিতর্কিত সই ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কার্যালয়ে বসেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা এবার সেই বয়ানের সূত্র ধরেই সরাসরি হানা দিলেন তৃণমূলের মূল ডেরায়। সমন এড়িয়ে দিল্লিতে থাকলেও শেষরক্ষা হলো না।

খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে ঢুকে সিআইডি যেভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে, তাতে কার্যত থমথমে গোটা কালীঘাট চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অন্দরে তল্লাশিতে কী কী বিস্ফোরক তথ্য বা প্রমাণ উদ্ধার হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Exit mobile version