Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

হাইকোর্টে ধাক্কা, নিউ আলিপুরে CID! এবার কি খাঁচা বন্দি অভিষেকের আপ্তসহায়ক?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে আইনি রক্ষাকবচ জিনিসটা বড়ই অদ্ভুত। একটা মামলায় যখন স্বস্তির বাতাস বয়, ঠিক তখনই অন্য কোনো মামলার মেঘ এসে জীবনটা এক লহমায় অন্ধকার করে দেয়। আর সেই চরম বাস্তবটাই গতকাল বিকেলে হাড়হাড় খাটখাট টের পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। সোমবার ডেবরা থানার চাকরি-প্রতারণা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বস্তির মেয়াদ ২৪ ঘণ্টাও টিকল না! মঙ্গলবার বিকেলে সোজা গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) হাতে নিয়ে সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের ক্যানাল রোডের বাড়িতে হানা দিল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা CID। সৌজন্যে—শালবনি থানার সেই বহুল চর্চিত জমি কেলেঙ্কারি মামলা!

আইনি লড়াইয়ের চিত্রনাট্যটা ঠিক কতটা রোমাঞ্চকর, তা বুঝতে একটু পিছনের দিকে তাকাতে হবে। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পশ্চিম মেদিনীপুরের দুটি গুরুতর দুর্নীতির মামলা ঝুলছে। একটি ডেবরার চাকরি জালিয়াতি, আর অন্যটি শালবনিতে সরকারি জমির ভুয়ো নথি বানিয়ে বিক্রির মামলা। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ডেবরা মামলায় তাঁকে তদন্তে সহযোগিতার শর্তে রক্ষাকবচ দিলেও, শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন সাফ খারিজ করে দেন। আর আদালত সবুজ সংকেত না দেওয়া মাত্রই আসরে নামে ভবানী ভবন। মঙ্গলবারই জেলা পুলিশের হাত থেকে এই দুই মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে নেয় সিআইডি। আর দায়িত্ব পেয়েই বিকেলে বেহালা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সুমিতের নিউ আলিপুরের ডেরায় হানা দেয় গোয়েন্দারা।

শালবনি মামলার অভিযোগ কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জমিকে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়ো কাগজ তৈরি করে কোটি কোটি টাকায় বেসরকারি মহলে পাচার করা হয়েছে। আর এই গোটা চক্রে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার সঙ্গে এই সুমিত রায়ের সরাসরি আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের দাবি, ক্ষমতাশালী পদের নাম ভাঙিয়েই এই বিপুল দুর্নীতি চলত।

বিকেলে যখন সিআইডি দল নিউ আলিপুরের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন কিন্তু সুমিত রায়ের দেখা মেলেনি। সিআইডি সূত্রে খবর, বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও অভিযুক্ত সুমিত রায় আপাতত ‘পলাতক’ বা বেপাত্তা। প্রশ্নটা এখানেই—আইনের হাত কি তবে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে? নাকি ক্ষমতার বৃত্তে থাকা মানুষগুলো আদালতের খাঁড়া নামতেই হাওয়া হয়ে যাওয়ার পুরনো খেলাটাই খেলছেন? একদিকে বিষ্ণুপুর থানায় তোলাবাজির অভিযোগ, অন্যদিকে শালবনির জমি দুর্নীতি—চারিদিকে যখন আইনি গেরো শক্ত হচ্ছে, তখন ‘পলাতক’ সুমিত রায় কতদিন CID-র চোখ এড়িয়ে থাকতে পারেন, সেটাই এখন দেখার। তবে নবান্নের সবুজ সংকেত ছাড়া যে সিআইডি এত বড় ‘অ্যাকশন’ শুরু করত না, তা বোধহয় বাংলার রাজনৈতিক ওয়াচডগদের বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন পড়ে না!

Exit mobile version