Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিল্লি বিমানবন্দরে চরম নাটক! বিমান থেকে নামার আগেই খাঁচাবন্দি ককরোচ পার্টির মাথা অভিজিৎ দীপকে সহ ৩ উস্কানিদাতা!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের রাজধানী দিল্লিতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা এবং উস্কানিমূলক প্রচারের মাধ্যমে শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার আরও একটি গভীর ছক গোড়াতেই ধূলিসাৎ করে দিল দিল্লি পুলিশ। তথাকথিত যুব আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল পান্ডা তথা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর দুই প্রধান সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আজ হাতেনাতে আটক করেছে প্রশাসন। শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (IGI) অবতরণ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই রুদ্ধশ্বাস অ্যাকশন নেয় পুলিশ। বিমান থেকে নেমে রাজধানীতে বড়সড় অরাজকতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগেই, বিমানের ভেতরেই তাঁদের ডানা ছেঁটে দেওয়া হয়।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা) জারি করে সব ধরণের বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। সিজেপি (CJP)-র এই কর্মসূচির কোনো আইনি অনুমতি ছিল না। আইনি নিষেধাজ্ঞা জেনেও স্রেফ লাইমলাইটে আসার জন্য এই নেতারা দিল্লিতে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে আসছিলেন। বিমানবন্দরের একটি সূত্রে খবর, বিমানটি রানওয়েতে থামার পরপরই দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং মহিলা পুলিশ কর্মীরা বিমানের ভেতরে প্রবেশ করেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখা মাত্রই নিজেদের ফোনে ইনস্টাগ্রাম লাইভ অন করে চরম নাটক শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সহযোগীরা। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা যখন তাঁদের আইন মেনে শান্তভাবে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান, তখন উল্টে পুলিশের সঙ্গে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। সহযাত্রীদের চরম অসুবিধার মধ্যে ফেলে বিমানের ভেতরেই চেঁচামেচি ও সস্তা স্লোগানবাজি করে সস্তা পাবলিসিটি পাওয়ার অপচেষ্টা চালায় এই দল। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কোনো ঝুঁকি না নিয়ে উস্কানিদাতাদের আটক করে বিমান থেকে নামিয়ে নিয়ে আসে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের মত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি তুলে দিল্লির বুকে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ডাক দিয়েছিল এই ভূঁইফোড় সংগঠন। ধ্রুব রাঠির পর এবার ককরোচ পার্টির প্রধানদের এই ধরপাকড়ের খবর সামনে আসতেই সাধারণ ও সচেতন নাগরিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের স্পষ্ট ক্ষোভ—কেন দেশের সংবেদনশীল নির্বাচন প্রক্রিয়া বা ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো আইনি বিষয়কে ঢাল বানিয়ে এরা লাগাতার দেশের শান্ত পরিবেশকে নষ্ট করতে চাইছে? সাধারণ যাত্রীদের বিমানের ভেতরে হেনস্থা করে এবং পুলিশের সঙ্গে অসভ্যতা করে এরা কোন ধরনের “গণতন্ত্র” বাঁচাতে চাইছে, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, সাধারণ যুবসমাজকে উস্কে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলা এবং সস্তা ভিউ পাওয়াই এই গ্যাং-এর আসল এজেন্ডা।

দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজধানীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো রকম আপস করা হবে না। ইতিমধ্যেই দিল্লির একাধিক সীমান্ত এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং যন্তর মন্তর চত্বরে ড্রোন নজরদারি চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু বহিরাগত সন্দেহভাজনকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথ—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলেই যে পুলিশ কতখানি কড়া ও কড়া দাওয়াই দিতে প্রস্তুত, তা আজকের এই সফল মেগা অ্যাকশন থেকেই অত্যন্ত পরিষ্কার।

Exit mobile version