প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে শিল্প পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এক বিরাট পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা শিল্প প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছেন। আগামী অক্টোবর মাসেই এই জোড়া প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬ হলদিয়াতে এক বৃহৎ রাসায়নিক প্ল্যান্টের উদ্বোধন হতে চলেছে। এর ঠিক পরেই, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ নদিয়া জেলার হরিণঘাটায় রিলায়েন্সের বহু প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস সম্পন্ন হবে।
আগামী ১৪ অক্টোবর হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (HPL)-এর সহযোগী সংস্থা ‘অ্যাডপ্লাস পলিমার্স অ্যান্ড কেমিক্যালস’-এর নবনির্মিত ফেনল ও অ্যাসিটোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি এই অত্যাধুনিক প্ল্যান্টটি দেশের পূর্ব উপকূলে প্রথম এবং ভারতের বৃহত্তম ফেনল উৎপাদনকারী ইউনিট হতে চলেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ওষুধ, রং এবং অটোমোবাইল শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ভারতেই উৎপাদিত হবে, যা দেশের আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
রাজ্যের শিল্প মহলে সবচেয়ে বড় চমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রিলায়েন্সের বহুল আলোচিত সফ্ট ড্রিংক ব্র্যান্ড ‘ক্যাম্পা কোলা’-র নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের শিলান্যাস ও ভূমিপূজন হতে চলেছে আগামী ২৮ অক্টোবর। রিলায়েন্স কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড নদিয়ার হরিণঘাটার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রায় ৩০ একর জায়গার উপর এই সমন্বিত ফুড অ্যান্ড বেভারেজ পার্কটি গড়ে তুলতে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। রিলায়েন্সের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার পরেই এই মেগা প্রজেক্টের সবুজ সংকেত মিলেছে, যার কাজ শুরু হলে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যে বৃহৎ পুঁজি টানতে এবং লজিস্টিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী শিল্পপতিদের জন্য ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ (Single-Window) ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে, যাতে ব্যবসায়ীদের কোনও প্রশাসনিক লালফিতার ফাঁসে পড়তে না হয়। অক্টোবরের এই জোড়া মেগা প্রজেক্টের হাত ধরে বাংলায় এক নতুন বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের সূচনা হতে চলেছে।
